রৌপ্য-ব্রোঞ্জের পর এবার স্বর্ণপদক পেলেন আনন্দ মোহনের মারুফ

মারুফ হাসান রুবাব
মারুফ হাসান রুবাব  © টিডিসি ফটো

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান রুবাব প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে (এপিএমও) স্বর্ণপদক পেয়েছেন। একই প্রতিযোগিতায় ২০১৯ সালে রৌপ্য এবং ২০২০ সালে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিলেন তিনি। নিজের অর্জনকে নিজেই ছাপিয়ে এবার স্বর্ণপদক জয় করেছে রুবার।

মারুফের এই অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাও দারুণ খুশি। ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দেশ ও জাতির সুনাম রক্ষায় মারুফের কাছে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছুর গ্রত্যাশা করেন তার স্বজন ছাড়াও ময়মনসিংহসহ দেশবাসী।

‘এপিএমও’তে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্বর্ণপদকজয়ী মারুফ হাসান রুবাব ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম গ্রামের আব্দুস সালাম ও শামিমা আক্তার দম্পতির তিন সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট। ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া হাজিবাড়ী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারের তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মারুফরা বসবাস করেন। মারুফ হাসান রুবাব ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

স্বর্ণপদকজয়ী মারুফ হাসান রুবাব জানায়, ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি আলাদা আগ্রহ থাকায় অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় গণিতটা বেশি রপ্ত করেন। আর দীর্ঘ পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা আর ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগানোর ফলেই তার এই স্বর্ণপদক এসেছে। একই প্রতিযোগিতায় ইতোপূর্বে ২০১৯ সালে রৌপ্য এবং ২০২০ সালে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছেন তিনি।

স্বর্ণপদকজয়ী মারুফ হাসান রুবাবের মা শামিমা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলের এই অর্জন সবার জন্য, তা শুধু আমাদের নয়। স্বর্ণপদক পেয়ে মারুফ আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সেইসাথে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী কোরবানি ঈদের আগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ছেলের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী স্বপন কুমার দাশ জানান, ‘গত ২৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে রেজান্ট ঘোষণার পর থেকে আমাদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ বিরাজ করছে। আমরা মারুফকে নিয়ে গর্বিত। ভবিষ্যতে মারুফের মতো অন্যরাও তাকে দেখে উৎসাহিত হয়ে আরো সাফল্য বয়ে আনবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।’

স্বপন কুমার দাশ আরো জানান, গত মার্চে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মোনেম বিজনেস ডিসট্রিক্ট ভবনে সামাজিক দূরত্ব মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে সবচেয়ে ভালো নম্বর পাওয়া ১০ জনের উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছিল আন্তর্জাতিক কমিটির কাছে। এবারের আয়োজনে ৩৭টি দেশের ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রসঙ্গত, এ প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদকজয়ী মারুফ ছাড়াও দু’টি ব্রোঞ্জপদক এসেছে ভিকারননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নুজহাত আহমেদ ও নটর ডেম কলেজের আদনান সাদিকের হাত ধরে। এই দলের ছয়জন পেয়েছে বিশেষ সম্মাননা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ

x