শিক্ষামন্ত্রীকে কে ফুল দেবেন তা নিয়েই শিক্ষকদের বাকবিতণ্ডা 

ফুল
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে আগামীকাল যোগ দেবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে ফুল কে দেবেন তা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকদের দুটি অংশ।

মঙ্গলবার (১০ মে) সন্ধ্যা ৬টার পর প্রশাসনিক ভবনের নীচে মহড়া হিসেবে ফুল দিতে যাওয়া রেজোয়ান আহমেদ শুভ্র ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধানকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষকদের আরেকটি অংশ।এর পরই বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী, প্রভাষক হিসেবে সদ্য যোগ দেয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জুয়েল মোল্লা ক্ষেপে গিয়ে ফুল দেয়া শিক্ষকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের জেড় ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ফুল দেয়া অংশের শিক্ষকরা। 

শিক্ষকদের নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেন নি বলে দাবি করেছেন জুয়েল মোল্লা। তবে গণমাধ্যমের কাছে ফুল দেয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য দুই শিক্ষককে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
জুয়েল মোল্লা বলেন, শিক্ষক হতে হলে বুকে রাজনৈতিক ছাপ থাকতে হবে নতুবা শিক্ষক হিসেবে তার অবস্থান থাকে না। আমি সেই জায়গা থেকেই কথা বলেছি। শিক্ষামন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতা। অবশ্যই তার সামনে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। ভুল করলে আমি ভুল বলতে পারবো না।

আরও পড়ুন: বিয়ে করেছিলেন অংকন-শাকিল 

তবে এই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক রিমন সরকার এবং রেজোয়ান আহম্মেদ শুভ্র। রিমন সরকার বলেন, যে ব্যক্তির শিক্ষক হওয়ার পেছনে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, তিনি তো এমন ব্যবহারই করবেন। আমরা এই ঘটনার তদন্তের সুষ্ঠু বিচার চাই। এরকম অযোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা কিভাবে শিক্ষকতা পেশাকে নষ্ট করছে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই জুয়েল মোল্লা। আমি সন্দিহান যে, আগামীকালকের অনুষ্ঠান কিভাবে বানচাল করা যায়, এজন্যই হয়তো তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছে। 

মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজোয়ান আহমেদ শুভ্র বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রোগ্রামে আগামীকাল শিক্ষামন্ত্রী আসবেন। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। উপাচার্যের নির্দেশক্রমেই বিভিন্ন কমিটি কাজ করছিলো। সেখানে শিক্ষকদের একটি অংশ যে ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটি দুঃখজনক। ভুলভ্রান্তি আমাদের মধ্যে থাকলেও অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এভাবে বাকবিতন্ডায় আমরা জড়াতে পারি না।

এদিকে জুয়েল মোল্লার ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান বলেন, প্রক্টরসহ সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে একজন নব্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক জুয়েল মোল্লার এমন আচরণ ঠিক হয়নি। যে উদ্ধত ব্যবহার করেছেন জুয়েল মোল্লা তা শিক্ষক সুলভ নয়। তাকে নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠান ভালো ভাবে সম্পন্নের পর এই নিয়ে আমরা কাজ করবো।

এদিকে উপস্থিত শিক্ষকরাও জুয়েল মোল্লার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে শিক্ষামন্ত্রীর চলে যাবার পর বিক্ষুব্দ শিক্ষকরা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগী হবেন। উপাচার্যের সামনে এমন ঘটনায় বিচলিত শিক্ষকরাও। তবে উপাচার্য উভয়পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।


x

সর্বশেষ সংবাদ