ভাই সম্বোধনে অখুশী, ‘স্যার’ ডাক শুনতে চান ডা. আশরাফ
ডাক্তার দেখাতে গিয়ে ভাই বলে সম্বোধন করায় নিজ কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে ‘বেয়াদব’ বলে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. এম এম আশরাফ উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ডাক্তার-ছাত্রের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্যে আশরাফ উদ্দিনের কাছে যান। ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশের সময় ওই শিক্ষার্থী ভাই বলে সম্বোধন করেন। এক পর্যায়ে ডাক্তার আশরাফ শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘‘ভাই ডাকা যাবে না। তুমি তো শুরুতেই বেয়াদবি করে ফেলেছো।’’
অভিযোগ করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘আমি চিকিৎসার জন্য ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারে যাওয়ার পর ডাক্তারের রুমে প্রবেশের জন্য ‘ভাই’ সম্বোধন করে অনুমতি চেয়েছি। এতে আমার ভুল কি হয়েছে? তিনি কীভাবে আমার আচরণ নিয়ে কথা বলতে পারেন...’’।
আরও পড়ুন: ফুলে ফুলে সুশোভিত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
এদিকে ‘ভাই ডাকা যাবে না’ বলা কথাটির সত্যতাও স্বীকার করেছেন ডা. আশরাফ উদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীকে বলেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো, জানা তো উচিত কাকে কীভাবে ডাকতে হয়। ভাই তো ডাকা যাবে না। তবে আমি স্যার কিংবা বেয়াদব এই দুই শব্দ ব্যবহার করিনি।
তবে ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে ডাক্তার আশরাফকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘ঢুকেই তো একটা বেয়াদবি করে ফেলোছো। আমি ভাই বলতে না করেছি এবং স্যার ডাকতে বলেছি। স্যার ডাকতে বলেছি বলে কি অন্যায় হয়েছে? পড়াশোনা শেষ করে একদিন সবাইকেই জবে আসতে হবে। তখন বুঝবে...’’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. আশরাফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বলে দেয় যে শিক্ষক ছাড়া অন্য কাওকে স্যার ডাকা যাবে না। এর জন্যেই এরকম পরিস্থিতি হয়। স্যার কি কেবল তাদেরই বলা যায়? অডিও রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কথা শুনে আমি হয়তো স্থিরতা হারিয়ে ফেলে এসব বলতে পারি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র মেডিকেল অফিসারে পদে চাকরি করার পাশাপাশি ক্লাস নিতেন প্রাইভেট কোচিং সেন্টারেও। কোচিং-এ ক্লাস নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য লাভজনক কাজে যুক্ত থাকতে হলে সেটি অনুমতি নিয়ে এবং সেখান থেকে আয়ের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি মানেন না তিনি।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত থাকা সময়ে কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নিতে পারবেন না উনি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।