১৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০২

বারবার পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করায় ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

সাত কলেজ  © লোগো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষ ২০১৯-১০ সেশনের পরীক্ষার সময়সূচী দফায় দফায় পরিবর্তন করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

জানা গেছে, চলতি অক্টোবর মাসের ২ তারিখ থেকে সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ও ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এরই মধ্যে পরীক্ষার সময়সূচী ৩ বার পরিবর্তন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবি থেকে প্রথম বর্ষের প্রকাশিত প্রথম রুটিনে এ মাসের ৩১ তারিখ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর পূজা থাকায় পরপর দুই দফা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১২, ১৭ ও ২৭ অক্টোবরের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ পরীক্ষাগুলো যথাক্রমে ২০, ২৫ ও ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিপাকে পড়েছেন মেসে থাকা মধ্যবিত্ত ও গরিব পরিবারের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী হুমায়ুন করিব বলেন, ‘পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকা আসছি, শেষ হলে বাড়ি চলে যাব। ঢাকায় থাকার মত আমার কেউ নাই। আমি গরিব-মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনার খরচ দেয়। আগে হলে থাকতাম, এখন করোনার কারণে হল বন্ধ। বাধ্য হয়ে এখন মেসে থাকতে হচ্ছে। চলতি মাসের ৩১ তারিখ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাই এক মাসের জন্য মেস ভাড়া করেছি। এখন দুইবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে। এই মাসের মধ্যে পরীক্ষাগুলো শেষ হলে ভালো হত, কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

সাত কলেজের আরেক শিক্ষার্থী তারেকুজ্জামান বলেন, ’পরীক্ষার তারিখ আর কতবার পরিবর্তন হবে? পরীক্ষা নিতেই যদি দুই মাস লাগে, ফলাফল দিতে আরও চার মাস লাগবে। এতে আমরা সেশন জটের মধ্যে পড়ে যাব। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেই, পরে দেখি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে আমরা বিপাকে পড়ে যাই।’

ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ’শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যা আমাদের জানাতে পারে, আমরা সমাধানের চেষ্টা করব। এছাড়া কোন কোন তারিখে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের ভালো হয়, আমাদের কাছে স্মারকলিপি নিয়ে আসতে পারে শিক্ষার্থীরা। তা ঢাবির কাছে উপস্থাপন করা হবে, সেই অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থীদের সেশনের জটে পড়ার আশঙ্কা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের সেশন জটে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই-তিন মাসের মধ্যে ফলাফল দিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ পরীক্ষা পেছাতে অনুরোধ করেছেন, কিছু শিক্ষার্থী গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা থাকলে আমাদের জানাতে পারে।