৭ অক্টোবর থেকে জবিতে সশরীরে পরীক্ষা, কতটা প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন?

করোনা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র আনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়খ্যাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজ খুললেও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্ব স্ব একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে খুলে দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাবি, রাবি, জাককানইবি, ববি, ইবি ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে হল না থাকায় মেস নিয়ে বিপাকে পড়লেও তা পরীক্ষার আগেই সমাধান হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে একমাত্র ছাত্রী হল নিয়ে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা।

চলমান করোনা মহামারির কারণে আটকে থাকা সেমিস্টারে ফাইনাল পরীক্ষা ও দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের পদচারণকে ঘিরে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় তা জানতে চাইলে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, আমাদের সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি যে সিদ্ধান্তই দেবে আমরা তা মানতে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানদেরকে সশরীরে পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করার পূর্বে শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার ব্যাপারে নিয়ন্ত্রকদের স্যানিটারাইজার ও শতভাগ মাক্স পরিধান নিশ্চিত করার জন্য বলেছি।এবং প্রতি বেঞ্চে একজন করে পরিক্ষার্থীদের বসানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপ করার জন্য সেন্টিগ্রেড মিটার দিয়েছি। কোন শিক্ষার্থীর শারীরিক তাপমাত্রা বেশি থাকলে তাদের আইসোলেসন সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।

পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে  বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়ার জন্য ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানদের নিয়ে নীতিমালা তৈরি করেছি। সেই নীতিমালায় স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে আমরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করছি। আমরা সেই নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ  স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তার জন্য প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে একটা করে সুরক্ষা কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা পর্যবেক্ষণ করবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানায় অবহেলা হচ্ছে কিনা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, প্রায় সাড়ে আঠারো মাস পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে শিক্ষার্থীরা। তাদের বড় একটা অংশ এখনও টিকা নিতে পারেনি তাদের সুবিধার্থে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করার আবেদন করেছি।এছাড়া পরীক্ষার দিনগুলোতে সকল রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস চলবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যদি কোনো শিক্ষার্থী তার সমস্যার কথা আমাকে জানায় তবে আমি আমার নিজের স্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলে কবে ছাত্রীরা উঠবে, কিভাবে উঠানো হবে, কবে থেকে আবেদন শুরু হবে এসব বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। একের পর এক ডেট পেছানোর কারণে আস্থা কমেছে শিক্ষার্থীদের। উদ্বোধনের প্রায় এক বছর পর হতে চললেও ছাত্রীরা উঠতে পারেনি। ছাত্রী হলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ও কবে নাগাদ আবেদন ফর্ম পূরণ করা শুরু হবে জানার জন্য ছাত্রী হলের প্রোভস্ট অধ্যাপক ড. শামীমাকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সকল ডিন, চেয়ারম্যান, প্রক্টর, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক, সবাইকে দ্বায়িত্ব দেওয়া আছে আমরা আশাবাদী কোনো প্রকার সমস্যা হবে না। এরপরেও যদি কোথাও কোন ত্রুটি থাকে তবে তা তাৎক্ষণিকভাবেই সমাধান করা হবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ