পাবলিকিয়ানদের ভাবনা: ভ্যাকসিন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকার্যক্রম

উচ্চশিক্ষা
তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী  © টিডিসি ফাইল ফটো

প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের শ্রেণি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু হলেও এখনও বন্ধ রয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেণি কার্যক্রম।  বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদী ক্লাসসহ নানা কর্মসূচি পালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কর্মসূচির আওতায় এনেই হল খুলে দিয়ে পাঠদানে ফিরে যাওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং উপাচার্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয় খোলার শর্ত হিসেবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের করোনার অন্তত একডোজ টিকা নিতে হবে —এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা কিভাবে টিকা নেবে? এ প্রশ্নেরও সমাধান হচ্ছে শিগগিরই, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়াই মিলবে করোনার টিকা।

মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো  এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে করোনার টিকা দিতে পারছেন না, তাদের টিকার আওতায় আনার জন্য ইউজিসি একটি অ্যাপ তৈরি করবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এরপর ইউজিসি সেসব তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে খুশির নতুন জোয়ার ক্যাম্পাসে ফিরে আসার স্বপ্নে।

এ সম্পর্কে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আল ইয়াসিন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমাদের মূল্যবান একটা সময় আমরা হারিয়ে ফেললাম। ক্যাম্পাস খুলে দিতে যাচ্ছে এমন সংবাদে আমার মধ্যে ভালো লাগা কাজ করছে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে আমি এখনও টিকা দিতে পারিনি। জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা গ্রহণের সংবাদে আমি আনন্দিত।’

আরও পড়ুন: শতভাগ টিকা নিশ্চিতে খুলবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হলে অবশ্যই হল খুলতে হবে। কেননা, সবার পক্ষে  বাসা ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়। আর হল খুলতে হলে অবশ্যই সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাইনি বিধায় টিকা দিতে পারিনি। আর জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়াও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। জন্ম নিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে করোনার টিকা গ্রহণের রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি করায় ব্যাপারটি সহজ হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালওয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরনের, ক্যারিয়ার গঠনের  সর্বোচ্চ স্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্যান্ডেমিকের কারণে এবং বর্তমান সরকারের গুরুত্বহীনতার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আজ অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হুমকির মুখে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। যেহেতু ভ্যাকসিনের অজুহাতে এখনও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হচ্ছে না, তাই জন্ম সনদের মাধ্যমে করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশনকে আমি স্বাগত জানাই। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা সহজেই টিকা নিতে পারবে। ক্যাম্পাস লাইফের ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্তময় সময়গুলো, বন্ধুদের সাথে আড্ডার সুন্দর মুহূর্তগুলো আবার ফিরে আসবে— সে প্রত্যাশা বুকে।’

আরও পড়ুন : শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অনুদান দেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ