২৪ মে ২০২১, ০৯:২৫

অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

শিক্ষার্থী  © টিডিসি ফটো

করোনা মহামারীর কারণে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাসের পর এবার হাঁটছে অনলাইন পরীক্ষার পথে। নেটওয়ার্ক সমস্যা ও অধিক মূল্যের ডাটাপ্যাকসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় অনলাইন ক্লাস চললেও পরীক্ষা নেয়া আদৌ সম্ভব কি না তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রীতিমত সংশয় দেখা দিয়েছে।

কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী সেশনজট কমানোর জন্য অনলাইনে পরীক্ষা দিতে রাজী থাকলেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় প্রেক্ষিতে অধিকাংশের মত অনলাইন পরীক্ষার বিপক্ষে। অনলাইন পরীক্ষার নিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মতামত তুলে ধরেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস-এর পবিপ্রবি প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত

আরো পড়ুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন আজ

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব ভট্টাচার্য্য বলেন, জীবনের ভয়ংকর এক চ্যাপ্টারের নাম করোনা। গত বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তায় ঝুঁকছে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। যার ফলে বড় ধরনের সেশনজট এর মুখোমুখি হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। সেজন্য আমার মনে হয় দ্রুত আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তবে অনলাইন পরীক্ষার বিপক্ষে আমি। কারণ দেখা যাচ্ছে সব জায়গায় নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে থাকে না এবং সেরকম সক্ষমতা এখনো হয়ে উঠেনি দেশে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার পরীক্ষা কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয় যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন পরীক্ষার পক্ষে মতামত দিলেই অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া যুক্তিযুক্ত হবে। অনলাইন পরীক্ষার জন্য যদি একজন শিক্ষার্থীও ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সেটা হবে চরম অন্যায়। তাই আমি সশরীরে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা দেওয়ার পক্ষে। সেক্ষেত্রে এক একটা ডিপার্টমেন্ট বা সেমিস্টার ধরে রুটিন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেওয়া যেতে পারে। যেমনটা করোনা কালীন সময়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের নেওয়া হয়েছিলো।

আরো পড়ুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে, ঘোষণা আসতে পারে কাল

নিউট্রিশন এন্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া জামান বলেন, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়াটা আমি ততটা যৌক্তিক মনে করি না। কারণ অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হলে সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বিধিনিষেধ থাকবে। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষা না দিতে পারে তাহলে এর দায়ভার কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবে? কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা শহরের বাইরে থাকে যেখানে নেটওয়ার্কের সমস্যা প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে। নেটওয়ার্কের সমস্যা জনিত কারণে যেখানে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাসই ঠিকমতো করতে পারে না সেখানে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়াটা পুরোপুরি অযৌক্তিক।

তিনি জানান, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা হতাশাজনক জীবন পাড় করছে। এমনিতেই ১৫ মাসের শিক্ষা বিরতি হয়ে গেল। আর কত সেশনজট হবে? আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ক্যাম্পাসগুলোতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি সব সেমিস্টারের পরীক্ষা আলাদা করে নেন তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক ভালো হতো। আমার অনুরোধ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে, আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে সেমিস্টার অনুযায়ী আলাদাভাবে সশরীরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের চিন্তা থেকে মুক্ত করুন।

আরো পড়ুন এক পক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা চান, অপর পক্ষ বলছেন—ছুটি বাড়ুক

ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শেখ কামরুজ্জামান বলেন, বর্তমান বিশ্বে অনলাইনে সামেটিভ এক্সাম (মিড বা সেমিস্টার ফাইনাল) নেয়ার নির্ভরযোগ্য কোনো সিস্টেম এখনও তেমনভাবে দৃশ্যমান নয়। আর কম্পিউটার-বেজড পরীক্ষার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, বিশেষ করে সামেটিভ এক্সাম এবং টেকনিক্যাল সাবজেক্টগুলোতে এটি বেশি প্রতীয়মান হয়। দেশে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের কমবেশি সমস্যা আছে আর খুব কম শিক্ষার্থীর নিজস্ব কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আছে। এছাড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ায় অভ্যস্ত নয়, অন্যদিকে আমাদের অনেকের ৮-১০ টা করে প্রাক্টিক্যাল সাবজেক্ট থাকায় অনলাইনে সেগুলার ক্লাস করাও সম্ভব হয় না, আবার অনলাইনে প্রাক্টিক্যাল সাবজেক্টের এক্সাম দেওয়াও অসম্ভব প্রায়। সব মিলিয়ে ফিজিক্যালি এক্সাম হলরুমে বসে এক্সাম দেওয়ার বিকল্প নেই। কেননা অনলাইনে ক্লাস করে এক্সাম দিয়ে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি পেয়ে যাবে এটা ভাবা অকল্পনীয়।

আরো পড়ুন অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে যা ভাবছেন জাককানইবি শিক্ষার্থীরা

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. বাবুল হাসান (নয়ন) বলেন, অনলাইন পরীক্ষা অবশ্যই একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারতো এবং এই করোনা পেনডেমিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে বসবাস করি। আমরা ৪জি এর যুগে প্রবেশ করলেও আমাদের দেশের অনেক স্থানেই সাধারণ নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না। আমার ক্লাসে ৭৫ জন ছাত্র ছাত্রী কিন্তু অনলাইন ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন। এর মধ্যেও আমার দুয়েকজন সহপাঠীকে বাইরে রাস্তায় কিংবা মাঠে দাড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। প্রায় এক তৃতীয়াংশ স্টুডেন্টকে বাদ রেখে ক্লাস চালিয়ে গেলেও এতবড় একটি অংশকে বাদ রেখে পরীক্ষা নেওয়া একদম অসম্ভব ব্যাপার মনে হচ্ছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত ডিভাইসেরও সংকট রয়েছে। তাই আমার মনে হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিকভাবে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিয়ে সশরীরের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করা।