২৩ মে ২০২১, ১০:১৪

অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে যা ভাবছেন জাককানইবি শিক্ষার্থীরা

জাককানইবি শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

বৈশ্বিক মহামারী পরিস্থিতির কারণে ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ছুটি বৃদ্ধিতে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতির মুখে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিন গুনছে শিক্ষার্থীরা।অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন মত ভিন্ন চিন্তা। অনেক বিভাগ আছে যেখানে ৫০% ক্লাসও হয়নি। আর এখন ইউজিসির পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মতামত উপস্থাপন করছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শিক্ষার্থীরা। আর সকল মতামতের চিত্র তুলে ধরেছেন- মো. ফাহাদ বিন সাঈদ। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার নিশি বলেন, প্রথমত, আমাদের দেশের বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকায় প্রচন্ড পরিমাণে নেটওয়ার্ক সমস্যা। মাঝেমধ্যে ক্লাস করতে গেলেই বাসার বাইরে গিয়ে ক্লাস করতে হয়। আমি নিজেও এই করুণ পরিস্থিতির স্বীকার। এই অবস্থায় অনলাইন ক্লাস হলে আশানুরূপ পরীক্ষা দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

দ্বিতীয়ত, করোনা ক্রাইসিসের এই খারাপ সময়ে আর্থিকভাবে অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন রয়েছে। মেগাবাইট কেনার ক্ষমতাটুকুও অনেক শিক্ষার্থীর নেই। সেখানে অনলাইনে এক্সাম দেয়া তাদের জন্য বিলাসিতার সমান!বিগত আড়াইবছর থেকে প্রথম বর্ষে আটকে থেকে সেশনজটে পড়াও আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। সেক্ষেত্রে অনলাইনে এক্সাম নেয়ার বিপক্ষে এবং ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার পক্ষে অবস্থান করছি।   

আরও দেখুন: নাজেহাল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা 

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী নায়মুল ইসলাম ইভান বলেন, আমরা তো অনলাইনে ক্লাসই করতে পারি নি! তাহলে অনলাইনে পরীক্ষা কিভাবে দিব।আমি অনলাইনে পরীক্ষা পক্ষে না। যদি এই মুহুর্তে  ক্লাস রুমে পরীক্ষা না নিতে পারে তাহলে "ওপেন বুক এক্সাম" নেওয়া হোক। তারপরেও অনলাইনে পরীক্ষা দিব না। কারন দীর্ঘ সময় আমরা অপেক্ষা করেছি ক্যাম্পাস খুলে দিবে এই আশায়। কিন্তু ক্যাম্পাস খুলবে না তাই এই অনলাইন পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের সব সেক্টর খোলা রেখে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোন মানে নেই। সীমিত পরিসরে হলেও এই মুহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সময়ের দাবি।সর্বোপরি এটাই বলবো, সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ক্লাস আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হোক।

ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোছাঃজান্নাতী বেগম বলেন,দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা নামক মহামমারী পুরো পৃথিবীর মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।বাংলাদেশ ও এর হাত থেকে রক্ষা পায় নি।যেখানে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অনলাইন ক্লাস হলেও সকল শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারে নি বিভিন্ন কারনে। কেউ কেউ ডিভাইসজনিত সমস্যার কারনে,কেউ বা নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যার কারনে।এজন্য অনলাইন পরীক্ষার চেয়ে ক্যাম্পাস খুলে পরীক্ষা নেয়া বেশি উপযোগী বলে আমি মনে করি।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন শেখ বলেন,অনলাইন পরীক্ষা অনলাইন পরীক্ষার পক্ষে-বিপক্ষে বলতে গেলে প্রথমেই কিছু বিষয় জানতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে সব বিভাগের পরীক্ষা যথাযথভাবে নেয়া সম্ভব কিনা সেটা আগে দেখতে হবে।

আরও দেখুন: শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে কোভিড পরবর্তী ৯টি কার্যকরী পদক্ষেপ

আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আমি অনলাইনে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক কিনা, তাহলে বলব আমি পক্ষে নয়। কারণ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে অনলাইন ভিত্তিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষার্থী যারা রয়েছে তাদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাটা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে। তাছাড়া দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে দূরে অবস্থান করছে। তাদের অনেকের নিকট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার উপকরণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে রয়েছে সাথে নাই। সে ক্ষেত্রে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির নেয়াটা জটিল হবে। সবাই জানি বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারে সুবিধাটা অতটাও দ্রুতগামী নয়। গ্রাম পর্যায়ে যারা আছে তাদের নেটওয়ার্কের সমস্যা বা ইন্টারনেটে সংযুক্ত সংযুক্ত হওয়ার সমস্যা এটা প্রকট আকার ধারণ করবে।

আর সবকিছু যেহেতু তুলনামূলক স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াটা যৌক্তিক দাবি বলে মনে করছি। শিক্ষার্থীদের কে যথাযথ গাইডলাইন এর মাধ্যমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে, মাস্ক পরিধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার এবং পাঠ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।

আরও দেখুন: চাকরির সব দরজা বন্ধ, বয়স শেষ—বেকাররা যাবেন কোথায়?