কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ ও দাবি বাস্তবায়নে স্মারকলিপি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মরতাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি, কয়েকদিন পর পর দপ্তর বদলি, আইন লঙ্ঘন করে বরখাস্ত করা অপরদিকে ন্যায্য অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখার বিষয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার উপাচার্য অনুপস্থিত থাকায় উপাচার্যের পিএস আমিনুর রহমানের হাতে স্মারকলিপিটি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অফিসারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আপনার বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচিও পালন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দাবি বাস্তবায়নে আপনার আশ্বাসের ভিত্তিতে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সকল কর্মসূচি ২৪শে মার্চ ২০১৯ তারিখে স্থগিত করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় উক্ত দাবিসমূহ দীর্ঘ দেড় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মহোদয়কে অবহিত করেও কোন কাজ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌক্তিক দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হওয়ায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিসারগণকে কার্যতঃ ওএসডি রেখে হাতে গোনা কয়েকজন অফিসারকে দিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকদিন পর পর দপ্তর বদলির কারনে অফিসারগণের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রশাসনে এক ধরণের অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, একটি মহলের অশুভ ইন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন ঘটানোর পাঁয়তারা হিসেবে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে আইন বহির্ভূতভাবে কয়েকজন অফিসারকে সাময়িক বহিস্কার, পদবী পরিবর্তন, চাকরি স্থায়িকরণ স্থগিত, পদোন্নতি আটকে রাখাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে কলা অনুষদে কর্মরত সহকারী রেজিস্ট্রার ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলীকে অন্যায় ও হয়রানিমূলকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীকে দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিশে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. আবু কালাম মোহাম্মদ ফরিদ উল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে যে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে; তা প্রফেসর ড. আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম নিজেই তাঁর লিখিত বক্তব্যে অস্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের কিছু ফাইল প্রকৌশল দপ্তরে রাখার জন্য মোহাম্মদ আলীকে দায়ী করে কারণ দর্শানো নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রফেসর ড. আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবরে তার লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

প্রফেসর ড. আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন যে, মোহাম্মদ আলী প্রকৌশল দপ্তরে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের কোন ফাইল বা আলমিরা রাখেননি। উপরন্তু তাঁর বক্তব্য মতে উপাচার্যের একান্ত সচিব এই ফাইলসহ জনসংযোগ দপ্তরের আলমিরা প্রকৌশল দপ্তরে নিয়ে আসেন। তাছাড়া মোহম্মদ আলী মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা। চাকুরীর শুরু থেকে এই বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অফিসিয়াল গোপনীয়তা রক্ষা করেই উক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুতরাং বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একটি মহলের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে মোহাম্মদ আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মোহাম্মদ আলীর সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের আহব্বান জানাই।

শুধু মোহাম্মদ আলী নয় এমন অনেক কর্মকর্তাকেই অন্যায়ভাবে সমায়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কথায় কথায় বদলি করা হচ্ছে। একেকজন কর্মকর্তাকে এক বছরে দুই-তিনবার দপ্তর বদলি করা হচ্ছে। বদলির ক্ষেত্রে পদবী বা পদ মর্যাদা অনুযায়ী করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন যাবত অফিসারগণের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। প্রশাসনে এক ধরণের অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। অফিসারগণের উপর হয়রানি বন্ধসহ আমরা এমন অরাজক পরিস্থিতির নিরসন চাই।

এ অবস্থায় গত ১অক্টোবর ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় কিছু দাবির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবিসমূহ হলো- কলা অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত মোহাম্মদ আলীসহ আইন বহির্ভূতভাবে যে সকল কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে; তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। যে সকল কর্মকর্তাবৃন্দের পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন এর সময় হয়েছে তাদের বোর্ডগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং সকলকে পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন দিতে হবে। যে সকল কর্মকর্তাবৃন্দের চাকরি স্থায়ীকরণের এর সময় হয়েছে তাদের দ্রুত চাকরি স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং যাদের চাকরি স্থায়ীকরণ স্থগিত রাখা হয়েছে তাদের দ্রুত চাকরি স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে যে সকল কর্মকর্তাবৃন্দের পদবী বদল করে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে তাদের স্বপদে (অর্গানুগ্রাম অনুযায়ী প্রাপ্য পদ) নিজ দপ্তরে পুনর্বহাল করতে হবে। উদ্দেশ্য মূলকভাবে কর্মকর্তাবৃন্দের বদলী বন্ধ করতে হবে। আপগ্রেডেশন প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণকে দপ্তরভিত্তিক সিনিয়রিটির ভিত্তিতে শুন্য পদে প্রতিস্থাপন করতে হবে। উচ্চতর শুন্য পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণের মধ্য থেকে পদোন্নতি বা নিয়োগ দিতে হবে। তবে কেউ উক্ত পদে আগেই আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে থাকলে তাকেই প্রতিস্থাপন করতে হবে।

দাবিসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন পরবর্তীতে যে কোন কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।


সর্বশেষ সংবাদ