০৪ মার্চ ২০২০, ২২:০৪

চবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৪

  © টিডিসি ফটো

পূর্বের ঘটনার জেরে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দুপক্ষ। বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত হয়।

আহতরা হলেন, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নেজামুল করিম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাকিবুল হাসান, বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. রিফাত ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল হামিদ ফুয়াদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃতরা হলেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বেলায়েত আক্তার, সংস্কৃত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সিমান্ত দাশ, দর্শন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেহেদি হাসান ও বহিরাগত একজন মো. আরিফ, পিতা: নুরুল ইসলাম, তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়।

জানা যায়, বিকালে আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী কনকর্ডের কর্মীরা শাহ জালাল হলের সামনে নাস্তা করতে আসলে পূর্বের ঘটনার জের ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বিজয়ের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে ধাওয়া খেয়ে কনকর্ডের নেতা-কর্মীরা শাহ জালাল হলে ঢুকে পড়লে হলে ঢুকে কনকর্ডের এক কর্মী ফুয়াদকে মারধর করে বিজয়ের কর্মীরা।

পরে, শাহ জালাল হলে অবস্থানরত আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী আরেক গ্রুপ সিক্সটি নাইনের কর্মীরা বিজয়ের কর্মীদের পাল্টা ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়। পরে দু পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার কনকর্ডের ওই কর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে চবি মেডিকেল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

ছাত্রলীগের চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে মদতদাতা সহকারী প্রক্টর রিফাত হোসেনের পদত্যাগ চাই এবং হিজবুত তাহরীতের কর্মী বিজয় গ্রুপের মো. ইলিয়াস ও জাহেদুল আওয়ালের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস বলেন, গতকাল বিজয়ের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও ছাত্রলীগ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার বন্ধু, ছোট ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য সাধারণ সম্পাদক টিপুর পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি।

প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তাদেরকে আরও সহনশীল হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আটককৃতদের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের আটক করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হবে।