বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে যখন ৮ বাসের কাউন্টার!
রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। নানান সংকট ও সমস্যার মধ্যদিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা এবং প্রশাসনের আগ্রহে বৃদ্ধি পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যলয়টির ভাবমূর্তি। তবে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে জীবন পার করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেও নানান সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। ক্যাম্পাসে আসতে হয় সিগন্যালে সিগন্যালে জ্যাম পার করে। ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং বের হতেও বিপাকে পড়তে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। সারাক্ষন জ্যাম লেগেই থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রধান ফটকের পাশেই ৮টি বাস কাউন্টার। এই কাউন্টারগুলোতে সর্বদা ভীড় লেগেই থাকে। ফলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও রেব হতে বাধার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন থেকে বিষয়টি দেখেও নিশ্চুপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তাদের দাবি, প্রধান ফটকে বাস কাউন্টারের কোন অনুমতি নেই। কিন্তু বিষয়টি চালক পক্ষ মানছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলা ভবন দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটকের (জরুরী ফটক) সামনে দাড়িয়ে আছে সারি সারি বাস। ফুটপাতে বাস কাউন্টার। যে ফুটপাত ব্যবহার করে সবসময় যাতায়াত করছে পথচারীরা। এ অবস্থাতে এসব ফুটপাতের উপর বাস কাউন্টার থেকে টিকেট কাটার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়া সাধারণ মানুষ।
এ বাসগুলার মধ্যে অন্যতম তানজিল, বিহঙ্গ, সাভার পরিবহন, ভিক্টর ক্লাসিক, ৮ নাম্বার, আজমেরী গ্লোরী। অন্যদিকে জুরাইন, যাত্রাবারী, ডেমরা যাওয়ার জন্য লেগুনা- এ পরিহনগুলোও ক্যাম্পাসের সামনের ফটক দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও আছে গুলিস্তানগামী টমটম (গোড়ার গাড়ি) এইখানে যাত্রি উঠা-নামা করে।
তাছাড়া গেটের সামনে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক বা রুমাল, চানাচুর-ঝালমুড়ি, কমলা কিংবা আনাড় ইত্যাদি হরেক রকম সুস্বাদু পণ্যের হাট বসে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে হাট-বাজার পরিস্থিতিতে ধারুণ ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যলেয়ের বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, কলা অনুষদের ফটকে দিয়ে যাতায়াতের সময় কাউন্টারগুলো সাধারণ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সেখানে বাসগুলো থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ইসলামপুর পর্যন্ত বিশাল জ্যামের সৃষ্টি হয়। এখান থেকে এই কাউন্টাগুলো সরানো হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যেমন নিশ্চিত হবে তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্বস্থি ফিরে আসবে।
ভুক্তভোগী লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ম্যাথিয়াস বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে সারি সারি গাড়ি দাড়িয়ে থাকলে সবার খারাপ লাগে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নষ্ট হয়। যাতায়াত করতে সামনে গেট দিয়ে সবসময় ধাক্কাধাক্কি করে প্রবেশ করতে হয়। প্রশাসনের এদিকে নজর দেওয়া দরকার।
এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই স্থানে বাস কাউন্টারের অনুমতি নেই। তাদের স্থান রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত। আগে এইসব বাস রায়সাহেব বাজার হয়ে চলাফেরা করত, কিন্ত এখন তারা এসব নিয়ম মানছেনা।