১১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২৯

ক্লাসরুম সংকট নিরসনের দাবিতে কুবিতে বিক্ষোভ

  © টিডিসি ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ক্লাসরুম সংকট নিরসনের আশ্বাসের সময় পার হলেও কোন সমাধান না হওয়ায় বিক্ষোভ করেছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাসরুম, ল্যাব, শিক্ষক সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার প্রশাসনের সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এমন আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।

তবে তাদের এ সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, আইসিটি বিভাগের বয়স ১০ বছর পার হলেও মাত্র একটি ক্লাসরুম আর সাতজন শিক্ষক নিয়ে চলছে বিভাগটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বার বার এ সংকট নিরসনের জন্য আবেদন করলেও আশ্বাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে প্রশাসন।

সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয় বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। ঐদিনই নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবন- ৪ (প্রকৌশল অনুষদ ভবন) পরিদর্শন করে এবং ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের সাথে সমন্বয় করে সোমবারের মধ্যে আইসিটি বিভাগের জন্য দুটি ক্লাসরুম, ল্যাব, শিক্ষকদের রুম হস্তান্তরের আশ্বাস দেয়। রেজিস্ট্রার নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে ঐ ভবনে তাদের তুলে দেবে এমনটাই আশ্বাস দেন।

কিন্তু শিক্ষার্থীরা সোমবার ঐ ভবনে গিয়ে কাজের তেমন কোন অগ্রগতিই দেখতে পায় না, সেখানে ক্লাস করা তো দূরের কথা। এমনকি শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রারের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি 'আসেনি' বলে জানান রেজিস্ট্রার দপ্তর। তাদের কোন দাবিই বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বসে প্রধান ফটক লাগিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সাথে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসবে- প্রক্টরের এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।

প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসেছিলাম। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তারা আমাদের আশ্বাসে মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার বসে দাবিগুলোর একটা সমাধান করার চেষ্টা করব।’

রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ঠিকাদাররা ঠিকমতো কাজ শেষ না করায় এ সমস্যা হচ্ছে। ঠিকাদারদের বিষয়ে আমরা বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তবে সোমবার রাতের ভেতর অন্তত দুটি রুম হলেও ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছি যেন মঙ্গলবার বিভাগটিকে দিতে পারি।’