২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩৬

চবির ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

প্রথমবারের মত ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে ছাত্রসংগঠন গুলোর মিছিল মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। এমনকি ক্যাম্পাসে পোস্টার, ব্যানার , লিফলেট বিতরণ, দেয়ালে চিকামারা এবং বুথ বসানো এসবেও এসেছে নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে সকল ধরনের নোট, শিট, সাজেশন ও মডেল টেস্ট বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হ্যাঁ, আগামী ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে এতসব নিষেধাজ্ঞা। এখানেই শেষ নয়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ৫ দিনের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবছর পরীক্ষা চলাকালে পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, ডিএসবিসহ ৭০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভর্তি জালিয়াতি ঠেকাতে ডিজিএফআই, এনএসআই গোয়েন্দা সংস্থাসহ মাঠে থাকছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১২০ জন সদস্য।

পাশাপাশি র‍্যাগিং প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সিইউ স্টুডেন্ট কমপ্লেন সেল’ নামক একটি ওয়েবপেজ চালু করেছে গত ২১ অক্টোবর। যা উদ্বোধন করেন চবির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড.শিরীণ আখতার। কর্তৃপক্ষের সাঁটানো বিভিন্ন ব্যানারে ওয়েবপেজটির লিংক দেয়া থাকবে। এতে ভুক্তভোগীরা অনায়াসে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। এবং অভিযোগকারীর নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরিচয় গোপন রাখার কথা জানিয়েছে কতৃপক্ষ।

এছাড়াও এবছর চবির আইসিটি সেলের অধীনে থাকবে একটি এন্টিপ্রক্সি টিম। যারা যেকোন ধরণের ভর্তি জালিয়াতি রোধে সক্রিয় থাকবে। একইসাথে জালিয়াতি রোধে পূর্বের অভিযুক্তদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যতীত সকল ধরনের পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, চিকা মারা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যেসব পোস্টার এবং চিকা মারা হয়েছে। সেগুলো অপসারণের কাজ চলছে। তবে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রসংগঠনগুলোর মিছিল মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে পারবে তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী, অস্থায়ী সকল হোটেল ও খাবারের দোকানে নির্ধারিত মূল্যের তালিকা সাঁটানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসাথে এবছর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে সকল ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এসএম আকবর হোছাইন বলেন, প্রশ্নফাঁসসহ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল অভিযোগ কেন্দ্রে প্রবেশের এক ঘন্টা পূর্বে লিখিতভাবে ইউনিট কো-অর্ডিনেটরকে জানাতে হবে। নেকাব এবং বোরখা পরিহিত ছাত্রীরা মুখমন্ডল ও কান প্রদর্শন করতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে অ্যান্টি প্রক্সি অ্যাপস ব্যবহার করবেন দায়িত্বরতরা। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, স্মার্ট ঘড়িসহ যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় হল প্রভোস্টরা প্রত্যেকটি হল পরিদর্শন করবেন। ভর্তি পরীক্ষার ৪৮ ঘন্টা আগে আসন বিন্যাসের বিষয়টি ওয়েব সাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িতকরণে বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় ছাত্রলীগের ‘মেডিক্যাল টিম’, 'অ্যান্টি র‍্যাগিং টিম’, ‘তথ্য সহায়তা টিম’, 'জয় বাংলা জরুরি বাইক সার্ভিস টিম' কাজ করবে বলে জানিয়েছে চবি ছাত্রলীগ।

এবছর ভর্তি পরীক্ষায় চারটি ইউনিট ও দুইটি উপ-ইউনিটের মোট ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭০ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এবার ভর্তি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় ৩০ হাজার বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাহিরে দুটি ইউনিটের পরীক্ষা পাশ্ববর্তী হাটহাজারী সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হবে। হল প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকরা হলগুলো পরিদর্শন করবেন।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত ছাত্রী ও মহিলা অভিভাবকদের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চবির শেখ হাসিনা হলে বিশ্রাম ও ওয়াশরুম ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অভিভাবকদের জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেনের প্লাটফর্ম 'নগদ' এর স্পন্সরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছাউনি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাহিরে প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হবে।

চবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ:

'বি' ইউনিট ২৭ অক্টোবর
'ডি' ইউনিট ২৮ অক্টোবর
'এ' ইউনিট ২৯ অক্টোবর
'সি' ইউনিট ৩০ অক্টোবর
'বি ১' ও 'ডি ১' উপ-ইউনিট ৩১ অক্টোবর