০৩ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২৮

হতাশাগ্রস্থ না হয়ে নিজের দূর্বলতাকে খুঁজে বের করতে হবে

  © টিডিসি ফটো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ইন্জিনিয়ারিং অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ২৭ হাজার পরিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন আব্দুল মুহাইমিন আদিব। ছোটবেলা থেকে সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদানের স্বপ্ন দেখা আাদিব পরিবারের বাঁধায় তার স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ইন্জিনিয়ার হওয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন জীবনের লক্ষ্য হিসেবে। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় এ+ না পাওয়ায় সেই স্বপ্নপূরণ নিয়েও দেখা দেয় সংশয়। একটা সময় ভর করেছিলো হতাশাও। হয়তো বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মতো হতাশার মাঝেই হারিয়ে যেতো আদিবের স্বপ্ন কিন্তু আদিব তার স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেন নি। মেধা,প্রচেষ্টা ও ধৈর্য দিয়ে জয় করেছেন হতাশাকে, পৌছেছেন নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। বশেমুরবিপ্রবি সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্জিনিয়ারিং অনুষদে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে অধ্যায়নরত এই শিক্ষার্থী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন তার স্বপ্নপূরণ যাত্রা সম্পর্কে সেই সঙ্গে নবীন ভর্তিচ্ছুদের জন্যও দিয়েছেন কিছু পরামর্শ।

ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আদিব জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও মেধাতালিকায় অবস্থান আশানরূপ ছিলো না, পরিবার থেকেও পাচ্ছিলাম না কাঙ্ক্ষিত মানসিক সাপোর্ট। একটাসময় হতাশা চলে এসেছিলো তবে ধৈর্য্য হারাইনি। নিজের প্রচেষ্টা বজায় রেখেছিলাম। প্রতিটি ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ভুলগুলো, দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতাম এবং পরবর্তী পরীক্ষায় সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতাম। আর এভাবেই বশেমুরবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় অর্জন করি কাঙ্খিত সাফল্য।

বর্তমানে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর বেশিরভাগ সময় কাটে কম্পিউটার কোডিং করে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও দক্ষ করে তুলতে চান নিজেকে। আদিব মনে করেন বশেমুরবিপ্রবিতে জিপিএ ভিত্তিক নাম্বার কম হওয়ায় যাদের ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে তাদের অন্যতম পছন্দ হতে পারে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য আদিবের পরামর্শ তারা যেনো প্রতিটি বিষয়ের বেসিক কনসেপ্ট ক্লিয়ার রাখে এবং এইসএসসি ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় বা কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষা আশানুরূপ না হলেই যেনো হতাশাগ্রস্থ না হয়ে পড়ে। আদিবের মতে "নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে, কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষা আশানুরূপ না হলে হতাশাগ্রস্থ না হয়ে বরং নিজের দূর্বলতাগুলো খুজে বের করতে হবে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। তবেই পরবর্তী পরীক্ষায় আসবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিং থাকায় এ বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। আদিব মনে করেন কোনো প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত না হয়ে কেবলমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে উত্তর প্রদান করা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, আসন সংখ্যায় দেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় বশেমুরবিপ্রবিতে নয়টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগে প্রায় ৩০০০ আসন রয়েছে যার মধ্যে ইন্জিনিয়ারিং অনুষদের ৬ টি বিভাগের অধীনে রয়েছে ৫০০ আসন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ২০ নাম্বার থাকে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে এবং অবশিষ্ট ৮০ নাম্বার থাকে ভর্তি পরীক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি তবে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ইন্জিনিয়ারিং অনুষদের ৮০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান থেকে ৩০ টি, গণিত থেকে ৩০ টি এবং রসায়ন থেকে ২০ টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১ এবং ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে ০.২৫ নম্বর।