০৭ জুলাই ২০১৯, ২০:০৫

শিক্ষার্থীকে ভুল ইনজেকশন: কারাগারে ডাক্তার ও নার্স

  © টিডিসি ফটো

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুন্নীকে ভুল ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগে ডা. তপন কুমার মণ্ডল এবং নার্স কুহেলিকাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে নিম্ন আদালত। রবিবার (৭ জুলাই) গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাৎ হোসেন ভুঁইয়া এই আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এম এ আলম সেলিম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী মোঃ ফজলুল হক খানের কাছ থেকে জানা যায়, ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত থেকে অভিযুক্ত ডাক্তার তপন চন্দ্র সরকার ৬ সপ্তাহের এবং দুই নার্স শাহানাজ ও কুহেলিকা ৩ সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। আজ ডা. তপন এবং নার্স কুহেলিকা গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে এবং গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এম এ আলম সেলিম বলেন, "ডাক্তার এবং নার্সরা ইচ্ছাপূর্বক মুন্নীকে ভুল ইনজেকশন প্রদান করেছে। মহামান্য আদালতের কাছে তাদের এ ভুল ইচ্ছাকৃত প্রতীয়মান হওয়ায় আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে।"

এদিকে প্রায় ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও জ্ঞান ফেরেনি মুন্নীর। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভুল চিকিৎসায় মুন্নির মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মে রাতে পিত্তথলিজনিত সমস্যার কারণে ডাক্তার তপন কুমার মন্ডলের অধীনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় মুন্নি। মঙ্গলবার সকালে তার অপারেশন করার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ সকালে রোগীর ফাইল না দেখে গ্যাসট্রাইটিসের ইনজেকশন সারজেলের পরিবর্তে অ্যানেস্থেসিয়ার (অজ্ঞান কারার) ইনজেকশন মুন্নির শরীরে পুশ করেন। এ ভুল ইনজেকশন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৩ মে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়

ওই ঘটনায় মুন্নির চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে ২৩ মে গোপালগঞ্জ সদর থানায় চিকিৎসক তপন কুমার মণ্ডল ও দুই নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

এছাড়া, উক্ত ঘটনার তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি দুই নার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দুই নার্সকে সাময়িকভাবে চাকরীচ্যুত করে।