২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে অনশনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী 

স্ত্রী স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী  © সংগৃহীত

ধামরাইয়ে বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী। স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়া এবং বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন তিনি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নেয় ওই ছাত্রী।

অভিযুক্ত মো. জুয়েল ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স শেষ করেছেন। অনশনরত ছাত্রী সূতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর এলাকার মো. দুলাল মিয়ার মেয়ে। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স শেষ করেছেন।

অনশনরত ছাত্রীর দাবি, ‘আমরা দুজন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। সেই সুবাদে আমাদের পরিচয়। সেই থেকে আমরা একে-অপরকে ভালবাসি। সেই থেকে আমাদের পথচলা। বিগত তিন বছর যাবৎ আমাদের প্রেম চলমান। এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বন্ধুকে সাক্ষী রেখে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হুজুর দিয়ে বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে জুয়েল। পরে আমার গর্ভে একটি সন্তান আসে। সেই সন্তান জুয়েল তার পরিচিত ডাক্তার দিয়ে গর্ভপাত করিয়ে নষ্ট করে ফেলে। এরপর জুয়েল তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় আমাকে। জুয়েলের মা আমাকে পুত্রবধূ হিসাবে গ্রহণ করে আমার সব কাপড় কিনে দেয়।’

ওই ছাত্রী আরো বলেন, ‘এতদিন পর্যন্ত ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে জুয়েল আমার সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ করে না। পরে আমি নিরুপায় হয়ে গত শুক্রবার বিকালে জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিলে জুয়েল ও তার বাড়ির লোকজন আমাকে পিটিয়ে ঘরের ভিতরে আটকিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। জুয়েল আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে আমি আত্মহত্যা করব।’

এ বিষয়ে ধামরাই থানা পুলিশের কর্তব্যরত কর্মকর্তা বলেন, একটা মেয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন করছে আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।