পোস্ট দেওয়ার জেরে হল সংসদের নেত্রীকে হেনস্তা জবি ছাত্রদল সভাপতির!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ফাতেমা তুজ জোহরার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে আজানের সময় গান বাজানোর প্রতিবাদে পোস্ট দেওয়ায় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী তাকে হেনস্তা করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডিতে করা এক পোস্টে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, আজকে ক্যাম্পাসে আজানের সময় গান বাজতেছিলো। এটার সত্যতা সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। আমি একটা পোস্ট দেই আজানের সময় এবং নামাজের সময় গান বাজানো নিয়ে। সন্ধ্যায় আমি ক্যাম্পাসে গেলে জবি ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল ভাই আমাকে কথা শুনার জন্য ডাকে। আমি গেলে ২০-২৫ জন ছাত্রদলের ছেলে আমাকে মাঝখানে রেখে চারপাশে গোলা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সে চিল্লাচিল্লি করে আমাকে বলে তুমি পোস্ট কেনো দিছো নামাজের সময় গান বাজানো নিয়ে? মববাজি করো? প্রপাগান্ডা ছড়াও? তোমার কাছে কোনো প্রমান আছে? এতগুলো ছেলের মাঝে আমি একা তারপর ওনার চিল্লাচিল্লি তে আমি থতমত খেয়ে যাই। তবু আমি বলতেছিলাম আমি আজকে মসজিদে নামাজ পড়ছি আবার অনেকে আমাকে অভিযোগ দিছে আর ফেইসবুকে তো এইটা নিয়ে অনেকেই পোস্ট দিছে।
ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি উপস্থিত থাকার বিষয়টি জানিয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা লেখেন, উনি সমানে চিল্লায়া যাচ্ছিলো আর বলতেছিলো ‘এইগুলা চলবে না এখন’ তখন তারা রইস স্যারকে ডাকে তারপর বলতেছিলো ‘দেখেন স্যার ওই কি পোস্ট দিছে আমরা নাকি গান বাজাইছি ওরা তো এইগুলা করতে পারে না এইগুলা তো সহ্য করবো না।’ তারপর রইস স্যার বলতেছিলো তুমি কোন ডিপার্টমেন্ট এ পড়ো? তখনও হিমেল ভাই চিল্লাইতেছিলো পরে রইস স্যার বলতেছিলো তুমি থামো হিমেল। ও আর পোষ্ট দিবে না। ওইখানে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ ভাই (ছাত্রদল সমর্থীত প্যানেল) দাঁড়ানো ছিলো। উনি কোনো প্রতিবাদ করে নাই। আতিক স্যার দাঁড়ানো ছিলো।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আমি হিমেল ভাইয়ের ক্যাম্পাসের জুনিয়র, নির্বাচিত প্রতিনিধি তারপরেও উনি ২০/২৫ জন ছেলের মাঝখানে আমাকে দাড় করিয়ে ইচ্ছামতো ঝাড়লো। আমার ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আমাকে হেনস্তা করে শুধু একটা পোস্ট কে কেন্দ্র করে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমার কোনো কিছু হলে এর দায় জবি ছাত্রদল সভাপতি হিমেল ভাই এর উপর বর্তাবে। তাহলে আজকে থেকে মনে রাখেন জবিয়ান, কোনো প্রতিবাদ করা যাবে না। পোষ্ট দিলেই রাস্তাঘাটে দাঁড় করিয়ে হেনস্তা করা হবে। জুলাই এর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তারা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা বন্ধ করতে চায়। আমাদেরকে দমিয়ে রাখতে চায়। হায় আফসোস, নব্য ফ্যাসিবাদি কায়দার প্রথম ভাগে স্বাগতম জন্মভূমি।
জানা যায়, এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘গণতন্ত্রের বসন্ত’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠান ও ব্যান্ড দলের পারফরম্যান্স। মূলত যোহরের নামাজের সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলমান থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট করেছিলেন ফাতেমা তুজ জোহরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আমি অনেক আপসেট হয়ে পড়েছি। আমি একা চলাফেরা করি, উনি আজকে আমাকে ওখানে একা পেয়ে যেটা করেছে মানে হেঁটে আমার হলে আসতে খৈুবেই ভয় লেগেছে। আতঙ্ক কাজ করিছে, কখন আমার সাথে কি করে। তো এতটুকু একটা জিনিস নিয়ে যদি উনি এত হাঙ্গামা করতে পারে, তাহলে উনি আমার সাথে আর কি কি করতে পারে। আমি ওনার এতো বছরের জুনিয়র তাও উনি আমাকে নিয়ে পড়ে আছেন।
অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম, নামাজের সময় গান বন্ধ রাখা হয়েছিলো, নামাজ শেষ হওয়ার পর আবার অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। কিন্তু পরে ফেসবুকে ইমুর পোস্ট চোখে পড়ে। পরে ক্যাম্পাসে ইমুর মাথে দেখা হলে তাকে ডেকে বলি, আমি তো ছিলাম, এরকম তো হওয়ার কথা না। আর হইলেও তোমার কাছেতো আমার নাম্বার আছে, আমাকে কল করে জানালে আমি আবার বন্ধ করতাম। জাস্ট এতটুকুই।