সাজেশনের নামে ভাইবার আগে টাকা আদায়ের অভিযোগ
সাজেশনের নামে ভাইবার আগে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল কাদের মিয়ার বিরুদ্ধে। জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিগত বছরগুলোতেও ভাইবা পরীক্ষার আগে সাজেশন দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হতো। বিগত বছরগুলোতে জনপ্রতি ৫০০ টাকা আদায় করা হতো। তবে শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে এবার তা কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ভাইবা পরীক্ষার আগে ক্লাস ও সাজেশনের কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় এবং সাজেশন না নিলে ভাইবায় নম্বর না দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
এ বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. হাসিব মিয়া অন্তর বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী ভাইবার জন্য কোনো সাজেশন নেয়নি বা ক্লাসও করেনি। কিন্তু তারা টাকা দিতে না চাইলে স্যার একপ্রকার চাপ প্রয়োগ করেই টাকা নিয়েছেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় টাকা দিয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল কাদের মিয়া বলেন, ‘ভাইবা পরীক্ষার জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। দিকনির্দেশনামূলক সাজেশন ও অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে। ভাইবার জন্য ক্লাস নেওয়া আমাদের নিয়মের মধ্যে পড়ে না। তাই যাতায়াত খরচ ও সাজেশন বাবদ কেউ ২০০ টাকা, কেউ ১০০ টাকা দিয়েছে, আবার কেউ দেয়নি। যারা টাকা দেয়নি, তাদের ভাইবাও নেওয়া হয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে এভাবে আর টাকা নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।’
সাজেশন বা ক্লাসের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার নিয়ম আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যেকোনো শিক্ষকই দিকনির্দেশনামূলক সাজেশন দিতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে আমরা আর এভাবে করব না। ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে এই টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, ড. আ হ ম মানোয়ার হোসেন, ড. রেজাউল করিম, মোছা. সেলিনা আক্তার মুন্নীসহ তিনি নিজে ক্লাস নিয়েছেন এবং সেজন্য অর্থ ভাগ করা হয়েছে। তবে কারও ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, অর্থ নেওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ড. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ভাইবার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। টাকা নেওয়ার বিষয়েও আমি কিছু জানি না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আমি সমর্থন করি না।’
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কলেজের বিভাগগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’