২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৪

পে স্কেলের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা  © টিডিসি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বক্তব্য প্রত্যাহার ও বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পে স্কেল-সংক্রান্ত দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘নবম পে স্কেল আমাদের ন্যায্য অধিকার’, ‘জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘পে স্কেল নিয়ে তালবাহানা চলবে না, চলবে না’।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সরাসরি বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক। এ ধরনের বক্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান। বক্তারা অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে এক কর্মচারী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আশায় বুক বেঁধে ছিলাম যে, একটি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে এবং আমরা অন্তত দু-মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারব। কিন্তু জ্বালানি উপদেষ্টার অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে আমাদের সেই শেষ আশাটুকুতেও আঘাত এসেছে। তিনি কি দেশে শান্তি চান না? কেন এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করলেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য পে স্কেল বাস্তবায়ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমাদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে।’

অপর এক কর্মচারী বলেন, ‘আপনারা পে স্কেল নিয়ে যে তালবাহানা শুরু করেছেন, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দেশের মাটিতে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। যে কমিশনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গরিব কর্মচারীদের পেটে লাথি মারা হয়েছে, সেই তালবাহানা আমরা মেনে নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নিজেকে যদি আন্তর্জাতিক নেতা বলে দাবি করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, এখন কার্যকর সিদ্ধান্ত চাই।’

বক্তারা আরও বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা অসহযোগ আন্দোলনসহ নির্বাচন বয়কটের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

মানববন্ধন শেষে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।