বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রী হলে অব্যবস্থাপনা, চরম দুর্ভোগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কবি সুফিয়া কামাল হলে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশরুমের বেহাল অবস্থা, পানির তীব্র সংকট ও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতির ব্যাপারে অভিযোগ করে আসছেন হলটির আবাসিক ছাত্রীরা।
দীর্ঘদিনের পুরোনো এমন ‘অব্যবস্থাপনা’ এবং ‘চরম দুর্ভোগ’-এর হলের প্রায় চার শতাধিক ছাত্রীর স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলের একাধিক তলার অধিকাংশ গোসলখানা ও টয়লেটের একাধিক দরজা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। যার মধ্যে কয়েকটিতে মেরামত কাজ চলছে। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত কাজ চললেও তার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে দাবি করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে বারবার হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ওয়াশরুমগুলো প্রায়ই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, মিলছে না স্থায়ী সমাধান।
হলের বিভিন্ন ফ্লোরে পর্যাপ্ত পানির ফিল্টার না থাকায় বিশুদ্ধ পানির জন্য শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শুধু খাবার পানি নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য পানির সংকটও গুরুতর। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় গোসলের জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়া হলের অধিকাংশ বেসিনের পানির কল নষ্ট।
হলের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। বেশিরভাগ সময় হলের আশপাশ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকে বলে জানান তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লিনাররা নিয়মিত ও যথাযথভাবে পরিষ্কার কাজ করেন না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অনেক সময় দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব সমস্যা নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ওফিজা আক্তার টুম্পা জানান, হলে সমস্যার শেষ নেই, ওয়াশরুমের দরজা নষ্ট। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখছি দরজা গুলো ঠিক করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ঠিক হয়নি।
গোসল করতে গেলে বালতি নিয়ে সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। হলের বেসিনের কল নষ্ট। কল দিয়ে অনবরত পানি পড়তেই থাকে, প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাইমা ইসলাম সিলভী অভিযোগ করে বলেন, হলের ক্লিনারদের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে প্রায় সবসময় ওয়াশরুম ও বেসিন স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা অবস্থায় থাকে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
তার অভিযোগ, ক্লিনাররা নিয়মিত পরিষ্কার না করার বিষয়ে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা নিজের টাকায় ঠিক করতে হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হতে বাধার মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাদিয়া আফরিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সবাই দায়িত্ব এড়িয়ে একে অপরের কাছে পাঠিয়ে দেন। ফ্লোরম্যামদের তদারকি কার্যতঃ নেই। পানির সংকট এতটাই তীব্র যে অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত খাবার পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয় এবং এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে ঘুরে পানি সংগ্রহ করতে হয়। তিনি হলের অবহেলিত পরিবেশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার কথাও তুলে ধরে দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেন।
হলের সার্বিক সমস্যা নিয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ড. মনোয়ারা বেগমের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, কবি সুফিয়া কামাল হলে কিছু সমস্যা রয়েছে।
তিনি জানান, হলের একজন ক্লিনার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যে ওই হলে নতুন ক্লিনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হলের অন্যান্য বিদ্যমান সমস্যাও দ্রুত সমাধান করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।