২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৩

বুটেক্সে জুলাই কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে শহীদ স্তম্ভ স্থাপন

বুটেক্সে শহীদ স্তম্ভ স্থাপন   © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে একটি বিশেষ শহীদ স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এবং ‘জুলাই কালচারাল সেন্টার’-এর উদ্যোগে একাডেমিক ভবনের সামনে এই স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। এই স্থাপনার মাধ্যমে মূলত ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, এই স্তম্ভটি কেবল একটি ভৌত স্থাপনা নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের এক অবিনাশী প্রতীক। শহীদদের আদর্শ ও সাহসের চেতনা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

এই শহীদ স্তম্ভ নির্মাণের নেপথ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আর্থিক সহায়তা ও কায়িক শ্রম। যদিও গত ২১ ডিসেম্বর এটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু প্রশাসনিক নানা জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে তা বারবার পিছিয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচীর আয়োজন করেন। সেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে শহীদ স্তম্ভ স্থাপনের পক্ষে বিপুল জনমত প্রতিফলিত হয়। সেই গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই গতকাল ২৭ জানুয়ারি দুপুর ২টায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্ব-উদ্যোগে স্তম্ভটি স্থাপন করেন। প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে শহীদদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেছেন।

উদ্যোগটি সম্পর্কে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শোয়াইব আল জান্নাত বলেন, 'বাংলাদেশে প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য শুধু গণঅভ্যুত্থান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—এই সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন শহিদ শরিফ ওসমান হাদি। সে লক্ষ্যেই তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের যাত্রা শুরু করেন। তাঁকে হত্যা করে সেই যাত্রা থামাতে চাওয়া হলেও তাঁর আদর্শ আজ ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে।এই প্রত্যয় থেকেই ‘বুটেক্স কালচারাল সেন্টার’-এর পথচলা শুরু, যার অংশ হিসেবে ‘ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী শহিদ স্তম্ভ’ স্থাপন করা হয়েছে। এটি বুটেক্সের ইতিহাসে ঐক্য, সাহস ও ত্যাগের নতুন অধ্যায়।আমরা চাই প্রশাসনের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের ঐক্য এবং শহিদ হাদির বিচার। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে। হাদি ভাইয়ের শুরু করা আন্দোলন আজীবন এগিয়ে নিতে হবে—এই আমাদের অঙ্গীকার।'

শহীদ স্তম্ভ স্থাপনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জুলাই কালচারাল সেন্টারের সদস্য ও ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম চৌধূরী জানান যে, বুটেক্সে ‘জুলাই কালচারাল সেন্টার’-এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার-সচেতন করে তোলা। ওসমান হাদি ও আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে প্রতিবাদের চেতনা জাগ্রত করতে চায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠ গড়ে তুলতে চায়। তাদের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ নির্মাণ, যেখানে কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকবে না এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই এই স্তম্ভটি স্থাপিত হয়েছে এবং শহীদদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচারের দাবিতেই এটি তাদের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। উল্লেখ্য, বুটেক্স শিক্ষার্থীদের এই সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহীদ আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নবনির্মিত এই শহীদ স্তম্ভের ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘বুটেক্সে নির্মিত "ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী শহীদ স্তম্ভ"। অভিনন্দন এই উদ্যোগের সাথে জড়িত বুটেক্স শিক্ষার্থীকে।’