২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৫

নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়  © টিডিসি

ঘোষণা দিয়েও হঠাৎই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ছাত্রনেতারা। 

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে প্রশাসন ভবনের নীচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।

এতে উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব ইয়াশিরুল কবীর, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুবাশ্বির আমিন, সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মন্ডল, খেলাফত ছাত্র মজলিশের সভাপতি সাদেক খান, সোচ্চারের সভাপতি রাহাত আব্দুল্লাহ ছাড়াও শতাধিক শিক্ষার্থীরা।

মিছিলে ‘তারা জেগেছে রে জেগেছে, ইবিয়ানরা জেগেছে’; ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’; ‘নিয়োগ বোর্ড বন্ধ কেন? প্রশাসন জবাব চাই’; ‘নিয়োগ কেন বন্ধ হয়, শিক্ষার্থীরা জানতে চায়’; ‘জাবি রাবি নিয়োগ পায়, ইবি কেন বন্ধ হয়?’ ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানব না’; ‘টালবাহানা কইরো না, গদি কিন্তু থাকবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শিশির বলেন, ‘এই বিভাগ চালুর পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ক্লাসরুম দেওয়া হয়নি। আমাদের মাত্র দুজন শিক্ষক ছিলেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে আমাদের এগিয়ে নিচ্ছিলেন। আমরা যখন আশায় বুক বাঁধছিলাম, তখন এই বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আপনারা বোর্ড করেছেন কি না, তা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। ভাইস চ্যান্সেলর স্যার শিক্ষক সংকট ত কাটাতেই পারেননি উল্টো যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেগুলোও বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমরা এই নিয়োগ বোর্ড বন্ধের কারণ জানতে চাই এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই। নইলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।’

ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব ইয়াশিরুল কবীর বলেন, ‘প্রশাসন ৫ আগস্টের পরে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং আবাসন সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন হল চালু করার দুটি দাবি ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, প্রশাসন সেশনজট নিরসন করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করবে। কিন্তু বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষক সংগঠন এই নিয়োগ বন্ধ রাখতে লিখিত ও মৌখিকভাবে নিয়োগ বন্ধ রাখতে চাইছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার হরণ করছে তারা এখানে থাকার বা শিক্ষকতা করার অধিকার রাখে না।

এ সময় যেসব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড দেওয়া আছে প্রয়োজন নির্বাচনের আগেই সেসব বোর্ড সম্পন্ন করে শিক্ষার মান নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। 

ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম, বাংলাদেশ সিন্ডিকেটমুক্ত হবে। আওয়ামী আমলে দেখছি নিয়োগ পছন্দমতো না হলে বন্ধ হয়ে যেত। কারা আজকের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করল, তা আমরা জানতে চাই। কাদের ইন্ধনে আজকের নিয়োগ স্থগিত হয়েছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করুন। আপনি প্রকাশ করতে না পারলে শিক্ষার্থীরা তাদের খুঁজে বের করে সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেশনজটে ক্লান্ত, তারা ভেবেছিল প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ হবে। কারা শিক্ষক নিয়োগে অসহযোগিতা করছে, তাদের নাম আপনারা প্রকাশ করুন। শিক্ষার্থীরা সেই অদৃশ্য শক্তিকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত আছে।’

শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, কোনো দল ও মতের চাপে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়নি বরং শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অনুপস্থিতর কারণে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। খুব শিগগির এই স্থগিত হওয়া শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের তারিখ ঘোষণা করা হবে।