বাসে কুবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, আটক ৫
চলন্ত বাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে বাসের চালক ও হেল্পারসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ‘তিশা-প্লাটিনাম’ নামের বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তদের মধ্যে বাসের হেল্পার মামুন হোসেন (৩১), চালক আল আমিন (২৬) এবং অপর তিনজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে তিশা-প্লাটিনাম বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর তিনি নিজের সিটে সমস্যার কথা জানালে হেল্পার সিট ঠিক করতে আসেন। এ সময় সিট ঠিক করার অজুহাতে হেল্পার তাকে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
পরে তিনি বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পদুয়ারবাজার এলাকায় গিয়ে বাসটি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বাস মালিকের পক্ষে কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজন অস্ত্রধারীকে আটক করে।
অপরদিকে, শিক্ষার্থীরা বাসটির চালক ও হেল্পারকে আটক করে বাসসহ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তেক্ষেপে তাদের দুজনকেও সদর দক্ষিণ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, “সিটে সমস্যা থাকায় আমরা হেল্পারকে ডাক দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সরতে না দিয়ে আমাদের শরীরের ওপর দিয়েই সিট ঠিক করতে যান এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অশালীন স্পর্শ করেন।”
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হেল্পার মামুন হোসেন বলেন, “চলন্ত বাসে হঠাৎ ব্রেক করলে তারা পড়ে যেতে পারে ভেবে উঠতে বলিনি। সিট ঠিক করতে গিয়ে আমার বাম হাতের কনুই তাদের গায়ে লেগে যায়। এ নিয়ে তারা আমাকে ধমকায়। আমি তখন ক্ষমা চেয়েছিলাম। কিন্তু পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে এসে হঠাৎ কিছু লোক আমাকে মারধর করে।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, "নিরাপত্তার জন্য আমাদের পুলিশ-প্রশাসনের সাহায্য লাগবে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত পেলেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবো।"
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাইনোদ্দোউল্লা ফেরদৌস বলেন, ট্রিপল নাইনে একটি অভিযোগ পাওয়া যায় যে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে মিরসরাই এলাকায় তিশা প্লাটিনাম বাসের ড্রাইভার ও হেলপার একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী পদুয়ার বাজার এলাকায় অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা বাসটিকে সিগন্যাল দিলে সেটি না থেমে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করে বাসসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে বাসটি নুরজাহান হোটেলের সামনে দাঁড়ালে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য বাসের ড্রাইভার ও হেলপারদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরো বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা তিনজনকে আটক করে পরবর্তীতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।