অনিয়মের অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নিয়োগ স্থগিতের নির্দেশ, ব্যাখ্যা চেয়েছে ইউজিসি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পদ শূন্য হওয়ার পূর্বেই ৩ জন প্রার্থীর জন্য প্রভাষক পদের প্যানেল তৈরি করে রাখার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একইসাথে সকল ধরনের চলমান নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর এক চিঠিতে সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ইউজিসি জানায়, ‘ইতিহাস বিভাগে পদ শূন্য হওয়ার পূর্বেই ৩ জন প্রার্থীর জন্য প্রভাষক পদের প্যানেল তৈরি করে রাখা হয়েছে মর্মে উত্থাপিত অভিযোগ কমিশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত পদে জনবল নিয়োগের প্রাক্কালে নিয়োগ পরবর্তী প্রার্থীদের প্যানেল প্রস্তুত করে রাখার কোনো সুযোগ নেই।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ইতিহাস বিভাগে নিয়োগের প্রাক্কালে পদ শূন্য হওয়ার পূর্বেই কেন প্রভাষক পদের প্যানেল তৈরি করে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য আগামী ৫ (পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হলো। একইসাথে সকল ধরনের চলমান নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
গতবছরের ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯তম সিন্ডিকেট সভার নথিতে দেখা যায়, ২৮ আগস্ট থেকে আগামী এক বছরের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের কোনো শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে গেলে বা পদ শূন্য হলে বা নতুন পদ ছাড়করণ হলে তিনজন প্রার্থীর একটি ‘প্যানেল’ থেকে ক্রমানুসারে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ অনুমোদন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার শুরু ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক পদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর বাছাই বোর্ড আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সুপারিশ করলে সিন্ডিকেট তা অনুমোদন করে তার নিয়োগ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আরও তিনজনকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো শূন্য পদ ও সৃষ্ট হওয়া নতুন পদে নিয়োগের জন্য প্যানেলভুক্ত করার সুপারিশ করে বাছাই বোর্ড। তারা হলেন- মো. তারেকুল ইসলাম, সাজিয়া সুলতানা ও তাসনুভা রাগদা।
এদিকে সিন্ডিকেটের বিবরণী বলছে, পদ শূন্য হলে নতুন বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এই তিনজনের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে আগামী এক বছর। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে ব্যবস্থা নেয় ইউজিসি। তবে ইউজিসির সেই নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ২৭ পদে আবারও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় আমরা ইউজিসি থেকে কোনো চিঠি পাইনি। চিঠিটি আমরা এই বছরের জানুয়ারি মাসের ১৩ কিংবা ১৪ তারিখে পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে আমরা ইতোমধ্যেই ইউজিসিতে চিঠি প্রেরণ করেছি। পরবর্তী জবাব অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।