সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আচরণে আলেম সমাজ কখনো ব্যথিত হয়নি: ইআবি ভিসি
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কথা ও বক্তব্যে কখনো কটূক্তি বা কর্কশ ভাষার প্রকাশ ঘটেনি। তার আচরণে এ দেশের সাধারণ মানুষ কিংবা আলেম সমাজ কখনো ব্যথিত হয়নি। তিনি ছিলেন আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেত্রী এবং জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জাতিকে সঠিক ও দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়েছেন। শত নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েও তিনি কখনো দেশ ত্যাগ করেননি এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি। আলেম-ওলামাদের স্বার্থে তিনি কখনো আঘাত করেননি বলেও মন্তব্য করেন ।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই মাদরাসা শিক্ষার ফাজিল ও কামিল পর্যায়কে যথাক্রমে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের সমমান প্রদান করা হয় যা মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আজ তিনি কোনো একটি দলের নেত্রী নন বরং সারা দেশের আপামর জনগণের নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এর প্রমাণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাযাআত উল্লাহ ফারুকী, রেজিস্ট্রার মো. আইউব হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমেদ মোমতাজি ও উপ-পরিচালক (পওউ) মো. জিয়াউর রহমান।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার সহধর্মিণী, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এ সময় তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলমের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।