১৩ মে ২০১৯, ২২:০৩

নিরাপত্তা চেয়ে চবির সেই শিক্ষকের আবেদন

অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম।

সোমবার দুপুরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরীর কাছে এই আবেদনপত্র জমা দেন। তার আবেদনের পর বিকালে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম হোসেন হাবীবকে আহবায়ক, সহকারী প্রক্টর হেলাল উদ্দিন আহম্মদকে সদস্য সচিব ও লিটন মিত্রকে সদস্য করা হয় বলে জানান প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী। তদন্ত কমিটিকে অতিদ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবেদনপত্রে মাইদুল ইসলাম জানান, তিনি ক্যাম্পাসের খালেদা জিয়া হলের পাশে আবাসিক শিক্ষক ভবনে থাকেন। গত রবিবার সন্ধ্যা ৭ টা ৫০ মিনিটের এ ভবনের সামনের ১০ থেকে ১২ জনের একটা দল তাঁর নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে তাঁরা আবার শিক্ষক মাইদুলের বাসার দরজায় কয়েকবার লাথি মারেন। এ অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আবেদনপত্রে তিনি আরো বলেন, কে বা কারা এই কাজ করে থাকতে পারে তা কর্তৃপক্ষ চাইলে খুজেঁ বের করতে পারে। তাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ঘটনা জানার পর সেখানে সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র যান। পরে ওই ভবনে থাকা আরো কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে এ ধরণের কিছু শুনেননি বলে জানান। এ ছাড়া ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে কাউকে পাওয়া যায়নি।

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে বেশকিছুদিন ধরে লেখালেখি করে আসছিলেন মাইদুল ইসলাম। আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম। কোটা সংস্কারের পক্ষে লেখালেখি করায় মাইদুল ইসলামকে গত বছরের ১৪ জুলাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হুমকি দেন। পরদিন ১৫ জুলাই তিনি নিরাপত্তার কারণে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের উস্কানি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ এনে ১৭ জুলাই মাইদুলকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের হুমকির কারণে ২৩ জুলাই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে লিখিত আবেদন করেন মাইদুল ইসলাম। ওই দিন রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাইদুল ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষক ভবনে থাকেন তাঁরা হয়ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু বলতে চাননা। তবে তার নিরাপত্তা নিয়ে বেশ শঙ্কিত বলে জানান তিনি।