উপাচার্যকে বিদায় করতে পারায় উল্লসিত ববি পরিবার
টানা ৩৫ দিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পূর্ণমেয়াদে ছুটিতে যেতে বাধ্য হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক। উপাচার্যের পূর্ণমেয়াদে ছুটিতে বিজয় উল্লাস করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্যের পূর্ণমেয়াদে ছুটির নোটিশ পাওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে বিজয় মিছিল বের করেন তাঁরা।
বিজয় মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচ থেকে শুরু হয়। ঢাকা-পটুয়াখালি মহাসড়ক হয়ে ভোলা রাস্তার মোড় ঘুরে আবার প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় এসে শেষ হয়। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা -কর্মচারীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপাচার্যের পূর্ণমেয়াদে ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হককে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১১/৪/২০১৯ হতে ২৬/০৫/১৯ তারিখ পর্যন্ত ৪৬ দিনের জন্য নিম্নবর্ণিত শর্তে ছুটি মঞ্জুর করছেন। এতে আরো বলা হয়, উপাচার্যের অনুপস্থিতে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান নিজ দায়িক্তের অতিরিক্ত উপাচার্যের রুটিন দায়িক্ত পালন করবেন।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া ফোনে জানান, ‘স্বৈরাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, অবিচার করে কেউ স্থায়ী হতে পারেনি। বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইমামুলের এটার (ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক যে ছুটি) মাধ্যমে সেটা আবারো প্রমাণিত হলো।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে টানা ৩৫দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যে সফলতা অর্জন করল তা বাংলাদেশে নজির স্থাপন করেছে। প্রশাসনের উচ্চপদে থেকে যারাই অন্যায় করুক না কেন আমরা (শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা) ইমামুল হকের মতো তাকেও অপসারণ করব।
শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিনিধি লোকমান হোসেন আন্দোলনের এমন ফলাফলে সন্তুষ্ট ও আনন্দ প্রকাশ করেন। ২৭মে পর্যন্ত ছুটির দাবি ছিল তবে ২৬তারিখ পর্যন্ত ছুটির হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান যৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড সুব্রত কুমার দাসকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘এখন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে আমাদের আর কোন বাধা নেই। এতদিন যে অন্তরায় (বাধা) ছিল তা কেটে গেছে। আমার মনে হয় শিক্ষা কার্যক্রম আগামীকাল থেকে শুরু করতে পারি। আমাদের যে চাওয়া ছিল আজ তা পূরণ হয়েছে।’
প্রসঙ্গত ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে গার্ডেন পার্টির আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বললে আন্দোলন বেগবান হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য। আন্দোলনের মাঝে ৮ দফা দাবীতে আন্দোলনে নামে শিক্ষক সমিতি। দাবী আদায় না হওয়ায় শিক্ষক সমিতিও উপাচার্যের পদত্যাগ আন্দোলনে যোগ দেয়। অচল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম।