২২ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৩৬

সর্বোচ্চ ৫ ভাগ শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে: ববি উপাচার্য

ববি ভিসি  © টিডিসি ফটো

আবারো শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাবার জন্য আহ্বান করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.এস এম ইমামুল হক। তিনি বলেন, চিহ্নিত কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে। এদের সংখ্যা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ৫% এর বেশি হবে না। এতে বাকী শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে।

রবিবার ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আবেদন’ শিরোনামে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আহ্বান জানান তিনি।

এর আগেও দুইবার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাবার আহ্বান করেছিলেন উপাচার্য। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় রয়েছেন।

চলমান আন্দোলনের মাঝেই আবারো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য বলেন, বিগত ১৮ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ ব্যানারে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেগোনা ও চিহ্নিত কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন করে, যেখানে তারা আমার পদত্যাগ দাবি করে। ইতিপূর্বে চিহ্নিত কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীও একই দাবি করে আসছিল। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ৫% এর বেশি হবে না। এরা কার স্বার্থ হাসিলের জন্য বাকী ৯৫% শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস করার জন্য নেমেছে, এটা আমার প্রশ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরণের পরিস্থিতির অবসান চায় বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তারা এক কথিত সন্ত্রাসের ভয়ে ভীত হয়ে এর প্রতিবাদ করে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসছে না।

প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমার আবেদন, পরবর্তী কর্মদিবসে তোমরা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ক্লাসে চলে যাও। সকল বরিশাল বাসীর কাছে আমার অনুরোধ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মহিমা নিয়ে এগিয়ে চলতে আপনাদের সাহসী প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে আসুন।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সাথে সাথে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন। তারা আরও জানিয়েছে বিজ্ঞপ্তি আমাদের (শিক্ষার্থীদের) শান্তিপূর্ণ অসহিংস আন্দোলন কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অবিহিত করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। চরম মিথ্যাচার করেছেন উপাচার্য। আমরা ঘৃনভাবে ওনার এই মিথ্যাচার প্রত্যাখ্যান করছি।

প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে বৈকালীন চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ জানালে এ ঘটনায় ভিসি ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেন। এর প্রতিবাদে এবং ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।