১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৪১

ববি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত মানববন্ধন

ববি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত মানববন্ধন   © টিডিসি ফটো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) উপাচার্য প্রফেসর ড.এস এম ইমামুল হকের অপসারণ দাবিতে সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। এর আগে পৃথক পৃথকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারীরা নিজ নিজ দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে আসলেও আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা সম্মিলিতভাবে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে মানববন্ধন করেছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকাল ১১টা থেকে মানববন্ধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের একাংশ। এতে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকদের আলাদা একটি প্যানেল, শিক্ষার্থীরা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধন শেষে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন তাঁরা।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলছেন, এই ভিসি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বান্ধব না! স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। উপাচার্য পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত অফিসিয়াল কার্যক্রমে আমরা ফিরবো না। দরকার হলে আমরন অনশন করবো! তারপরেও তাকে পদত্যাগ করিয়ে তার পরেই ঘরে ফিরবো।

আন্দোলনরত মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে আন্দোলনে নেমেছি। এই স্বাধীনতা বিরোধী, স্বৈরাচারী, দুর্নীতিবাজ ভিসি ও নির্যাতনকারী ভিসির পদত্যাগ চাই এবং উপাচার্যের অপসারণ ব্যতীত আমাদের আন্দোলন চলবে। এছাড়াও মানববন্ধনে শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

এদিকে এক নোটিশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়স্থ সোনালি ব্যাংকের সকল লেন দেন রহিত করে দিয়েছেন উপাচার্য। এতে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের বেতন-ভাতা উঠাতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেন ও তারপরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর এক বিজ্ঞপ্তিতে এর জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন। সুধীজনের সাথে সমঝোতা হলেও ফল হয়নি।কার্যত অচল হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়।এরই মধ্যে উপাচার্য ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেন। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা পূর্ণকালীন ছুটির দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।