শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা, আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের ১৬তম দিনে ছাত্র আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন শিক্ষক সমিতি। অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, পদোন্নতি ও পদায়নে অনিয়ম, চাকরি স্থায়ীকরণে বিলম্ব, শিক্ষাছুটিতে পক্ষপাত ও অনিয়ম ইত্যাদি দূরীকরণের জন্য অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার ৩টায় প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব জানান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া। এসময় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য শিক্ষক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতির এই নেতা বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে স্বেচ্ছাচারী নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলন করায় তাদের সাধুবাদ জানাই। আমরাও শিক্ষক সমিতি আগামীকাল থেকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২ ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচিতে যাব।
তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৬ দিন যাবত ছাত্র আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষক পরিপন্থী, ছাত্র-পরিপন্থী, শিক্ষার পরিবেশ পরিপন্থী আইন কথায় কথায় তৈরি করা হয়। এক কথায় শিক্ষক নির্যাতনের কারখানা হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে স্বেচ্ছাচারিতা আমাদের সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতি ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে ক্ষোভ রয়েছে, চলমান ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো হচ্ছে-
১. ৫৮তম সিন্ডিকেটের ৯৫২নং আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী গ্রহণ করা সিদ্ধান্ত বাতিল করা হউক। এই সিদ্ধান্তের কারণে ৪০ এর অধিক শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা শুরু হয়েছে (সর্বশেষ সিন্ডিকেটে তিন বছর চাকুরী করার পরও নতুন করে দুই বছর প্রভেশন দেওয়া হয়েছে)।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যৈষ্ঠতা এবং চেয়ারম্যান নিয়োগে অনিয়ম দুর করা হউক। (বাংলা বিভাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে চরম অনিয়ম)।
৩. পদোন্নতি ও পদোন্নয়নে অনিয়ম বন্ধ করা। (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়ম ও বিজ্ঞপ্তি বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি প্রদান করা)।
৪. সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়োগে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা।
৫. চাকরি স্থায়ীকরণে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব বন্ধ করা।
৬. নৈমিত্তিক ও মেডিকেল ছুটি বহাল রাখা।
৭. অগ্রায়ণ প্রদান করতে হবে।
৮. শিক্ষা ছুটিতে অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।
এর আগে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সকাল ১১ টা থেকে ঢাকা-পটুয়াখালি মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান-চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। বরিশালের সাথে পটুয়াখালি, বরগুনা, ভোলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে তিন চার কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত বাস ট্রাক রাস্তায় আটকা পরে। জন-দুর্ভোগের শিকার হয় যাত্রী সাধারণ। এসময় শিক্ষার্থীরা জরুরী পরিবহন যেমন অ্যাম্বুলেন্স, বিভিন্ন এনজিও, ঔষুধের গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়।
বিকাল ৫টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচী তুলে নেয়। তারা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা থেকে আবারও অরবোধ কর্মসূচিতে যাবে। যতদিন উপাচার্য পদত্যাগ না করছেন ততদিন এভাবেই তাদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে উপাচার্যে চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিইউডিএস এর এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বললে আন্দোলন বেগবান হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে গত শনিবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ভেস্তে যায়। উপাচার্যকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর আশ্বস্ত করলেও শিক্ষার্থীরা তা লিখিত চেয়ে আন্দোলনে অনড় রয়েছেন।