০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৭

ববি উপাচার্যের অপসারণ লিখিতভাবে চায় আন্দোলনকারীরা

  © টিডিসি ফটো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে দিনভর আলোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও লিখিতভাবে এটি না জানানো পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ১১টা থেকে বরিশাল জেলা সার্কিট হাউজে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল জাহিদ ফারুক, সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ, জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোশারফ হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ২৫ সদস্যের ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হানিফসহ বরিশালের সুধী সমাজ অংশ নেন।

অবশ্য এর আগে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১২দিন আন্দোলনের পর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে রবিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান। তবে শিক্ষার্থীরা তা অস্বীকার করেছেন।

আলোচনা সভার শুরুতেই পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি মেয়র, সুধী সমাজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। দিনভর রুদ্ধদ্বার আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল জাহিদ ফারুক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে একটি প্রস্তাবনা দেন।

এসময় তিনি বলেন, উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হবে। তিনি আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফিরবেন না। নতুন করে একজন ভিসি ও প্রোভিসি নিয়োগ দেওয়া হবে। সিন্ডিকেটে বরিশাল থেকে একজন প্রতিনিধি সদস্য করা হবে।

এসময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. হাসিনুর রহমান সন্ধ্যা থেকে হল, ডাইনিং এবং আগামীকাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা ঘোষণা দেন।

তবে পরবর্তীতে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে উপাচার্যের চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিইউডিএস এর এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বললে আন্দোলন বেগবান হয়।

প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। পরে উপাচার্য দুইবার বিবৃতি প্রদান করে দু:খ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।