শনিবার আলোচনায় বসছে শিক্ষার্থীরা, আন্দোলন অব্যাহত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের ১০ দিনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান অচল অবস্থা নিরসনে ও দাবী আদায়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনায় সভায় বসতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে এগারো টা ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানান। এসময় তারা আধা ঘণ্টার মত সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ফলে যান চলাচল স্থবির হয়ে পরে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মোশারফ হোসেন বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আমাদের একত্বতা রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যে অচল অবস্থা বিরাজ করছে, এটা কখনোই কাম্য নয়। এতে তোমরা শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছো। বিদ্যমান অচল অবস্থা নিরসনে আগামী শনিবারে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে আমরা একটা আলোচনার সভা করবো। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থাকবে, তোমরা যারা আন্দোলন করছ তাদের প্রতিনিধি থাকবে। আশা করি আমরা একটি সুষ্ঠু সুন্দর সমাধানে পৌছাতে পারবো।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আলোচনায় সভায় বসতে সম্মত। কিন্তু আমাদের দাবী পূরণ না হলে আমরা সড়ক অবরোধের মত কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। এ দুদিন আমাদের শান্তি পূর্ণ আন্দোলন বজায় থাকবে।
এসময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিপিএম) কমিশনার মোশারফ হোসেন শিক্ষার্থীদের রক্তে লেখা ব্যানার, দেওয়াল লিখন, এবং বঙ্গবন্ধু হল পরিদর্শন করেন। হলের পানি, বিদ্যুৎ, ডাইনিং যে বন্ধ রয়েছে তা তিনি প্রত্যক্ষ করেন। উপাচার্যে চার বছরের ব্যর্থতা, দুনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থী মৌখিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
এদিন ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের নিজ তলায় অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সকাল ১১টা তারা রক্ত দিয়ে লেখা উপাচার্য পদত্যাগ সম্বলিত একটি ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের নিজ তলা থেকে ঢাকা-টুয়াখালি মহাসড়কে হয়ে ভোলা রাস্তার মোড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এসে শেষ হয় এবং রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এসময় তারা উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে উপাচার্যে চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিইউডিএস এর এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী দের রাজাকার বললে আন্দোলন বেগবান হয়। প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। তৎপরিবর্তে উপাচার্য দুই বার বিবৃতি প্রদান করে দু:খ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে। গতকাল বুধবার শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তাতে তারা ব্যর্থ হয়।