বাংলাদেশ বেতার পরিদর্শনে ববি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। বুধবার দুপুরে বিভাগের প্রভাষক মনিরা বেগমের তত্ত্বাবধায়নে নগরীর রূপাতলিতে অবস্থিত বরিশাল বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিকতার ধারণা (১০২) কোর্সের ফিল্ড ওয়ার্কের অংশ হিসেবে তাঁদের এ পরিদর্শন।
এসময় বরিশাল বেতার কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক এস এম জাহিদুল ইসলাম, প্রকৌশল পরিচালক সাজেদুল আলম, উপ-আঞ্চলিক পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আনসার উদ্দিন,অনুষ্ঠান বিষয়ক পরিচালক মনিরুল হাসান, সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মনিরা বেগম প্রমুখ।
এস এম জাহিদুল ইসলাম এসময় বাংলাদেশ বেতারের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে মিত্র বাহিনী তাদের প্রচারণার জন্য ঢাকায় আকাশবাণী নামে একটি বেতার কেন্দ্র তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে এটি শাহবাগে স্থানান্তর করে একে পাকিস্তান বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ বেতার গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেবার নিমিত্তে ১৯৯৯ সালের ১২ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালে একটি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান বাংলাদেশ বেতারের ১৭টি আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। এসময় তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ বেতারের ভূমিকাও তুলে ধরেন।
প্রকৌশল বিষয়ক পরিচালক সাজেদুল আলম বলেন, শীঘ্রই ভোলায় একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র খোলা হবে। বরিশাল বেতার কেন্দ্র থেকে ১২৮৭ কিলোহার্টজে এএম এবং ১০৫.২ মেগাহার্টজে এফএম রেডিও সম্প্রচার করে থাকে। আমরা প্রত্যেক দিন ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট অনুষ্ঠান মালা সম্প্রচার করে থাকি।
উপ-আঞ্চলিক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষা, তথ্য, বিনোদন এই তিন উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করি। গান, নাটক-নাটিকা, জারী-শাড়ীগান, বিজ্ঞাপন যাই প্রকাশ করিনা কেন তার মাঝে এই তিন উপাদান বিদ্যমান থাকে। আঞ্চলিক লোকজ-সাংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করি আমরা। ভাষা-সংস্কৃতির চর্চা একমাত্র বাংলাদেশ বেতারই করে থাকে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ বেতার কিভাবে অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে, রেকর্ডিং, ট্রান্সমিশন করে সেসব বিষয় ব্যবহারিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন প্রকৌশল পরিচালক সাজেদুল আলম ও অনুষ্ঠান বিষয়ক পরিচালক মনিরুল হাসান।