চবিতে ফের ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬
বুধবার রাতের সংঘর্ষের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি ও বিজয় গ্রুপ ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি রামদা উদ্ধার এবং তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে খাওয়ার সময় বিজয়ের কর্মীদের উপর প্রথমে হামলা চালায় সিএফসি’র কর্মীরা। এরপর উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন গুরুতরসহ কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছে। এসময় সিএফসি কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের ২০ থেকে ২৫টি কক্ষে ভাংচুর চালায়। হামলা থেকে বাদ পড়েনি প্রতিবন্ধীদের কক্ষও।
জানা গেছে, বিবাদমান দুটি গ্রুপই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপ-শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। সংঘর্ষে বিজয়ের একজন এবং সিএফসির পাঁচজন আহত হয়।
আহতরা হলেন, ইতিহাস বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের ওসমান, বাংলা বিভাগ ২০১৮-১৯ সেশনের ইমরান হাসান, ইংরেজি বিভাগ ২০১৭-১৮ সেশনের ফয়সাল, একই বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের রহমত উল্লাহ, সমাজতত্ত্ব বিভাগ ২০১৩-১৪ সেশনের মেহেদী হাসান, ইসলামের ইতিহাস ২০১৮-১৯ আব্দুস সাত্তার। আহত ওসমান বিজয় গ্রুপের। এছাড়া বাকিরা সিএফসির কর্মী বলে জানা গেছে।
চবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিজয়ের নেতা তারেকুল ইসলাম বলেন, গতকালের (বুধবার) সংঘর্ষের পর সিনিয়ররা বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়। তবুও ছাত্রলীগ নামধারী দুষ্কৃতিকারীরা পুনরায় আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা প্রশাসনের নিকট এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
অপরদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিএফসি নেতা রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিজয়ের কর্মীরা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তাই আমরা তাদেরকে প্রতিহত করেছি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আখরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় বিজয়ের এককর্মীকে মারধর করায় রাত ১০টায় বিজয় ও সিএফসি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঐসময় সিএফসি কর্মি ইখলাসুর রহমানের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় বিজয়ের কর্মীরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।