২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৭

পাকিস্তানী রীতির শহীদ মিনার ভেঙ্গে নতুনভাবে তৈরি

চবি শহীদ মিনার উদ্বোধন করছেন উপাচার্য  © টিডিসি ফটো

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাঠামোর আদলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) জয়বাংলা ভাস্কর্যের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে নির্মিত হবে চবির নতুন শহীদ মিনার। বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এসময় চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার উপস্থিত ছিলেন।

ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ মিনারটি ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-জামায়াত সরকারের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর সেই শহীদ মিনারটি পাকিস্তানের লাহোরে নির্মিত ‘মিনার-এ পাকিস্তান’ নামে একটি স্থাপনার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এর উপরে আনারসের আদলে একটি প্রতীক স্থাপন করা হয়। যা নিয়ে সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। যা সুধিমহলের মতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান ও অবমাননার শামিল।

তিনি আরো বলেন, চবির বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক চেতনা এবং শেখ হাসিনার শিক্ষাদর্শনের আলোকে সর্বক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিগত সাড়ে তিনবছর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে এসেছে। অশুভ শক্তিকে নিধন করে আলোর প্রজ্জ্বলন ঘটানোর জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন স্মৃতি রক্ষার্থে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের ‘মিনার-এ পাকিস্তান’ এর আদলে নির্মিত শহীদ মিনারটির পরিবর্তন করে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান শহীদ মিনারটির যে কাঠামো রয়েছে তা আমরা ‘বিজয় স্তম্ভ’ হিসেবে রাখবো। তবে এর অবয়ব কিছুটা পরিবর্তন করা হবে। এর উপরে আনারস সদৃশ যে প্রতীকটি রয়েছে সেটা অপসারণ করে সেখানে জাতীয় পতাকা স্থাপন করা হবে। আমরা ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে শহীদ মিনার নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। ভাষার মাসের শেষ দিনে এ শহীদ মিনার নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত।

শহীদ মিনানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালে চবি সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, ফাইন্যান্স কমিটি, অনুষদসমূহের ডিন, শিক্ষক সমিতি, রেজিস্ট্রার, হলসমূহের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, প্রধান প্রকৌশলী,চবি সাংবাদিক সমিতি, কেএসআরএম গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার এমডি আবু সুফিয়ান ও মিজানুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশ-জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন (পিএন্ডডি) কমিটির ৩০৭ তম সভায় এ শহীদ মিনার অনুমোদন করা হয়। এ শহীদ মিনার নির্মাণে দেশের খ্যাতিমান ইস্পাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপ সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।