সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারেন না ৫৯.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পড়াশুনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা প্রয়োজন। তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা মন খুলে কথা বলার মতো কোনো শিক্ষক পান না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবনতা বেশি। 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ-শীর্ষক আঁচল ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। শুক্রবার (৭ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে সে সমীক্ষার বিবরণ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চালানো হয়েছে এ গবেষণা।

৫৯.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তারা মন খুলে কথা বলার মত কোনো শিক্ষক পান না। এর মাঝে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬২.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজ শিক্ষকদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এবং ৩৭.১ শতাংশ  শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তারা খুব সহজে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে মেলে  ধরতে পারেন। 

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরির চেয়ে দেশ ছাড়ার চিন্তা বেশি শিক্ষার্থীদের

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮.৮ শতাংশ  শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ৪১.২ শতাংশ শিক্ষার্থী ফ্যাকাল্টির অন্যান্য মেম্বারদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে নজর দেওয়া দরকার। 

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে দেখা যায়, ৩১.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, ২৯.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে চান, ৯.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, মাত্র ৭.১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি চাকরি করতে চান। এছাড়া বাকি শিক্ষার্থীরা এখনো কোনোরূপ ক্যারিয়ার ভাবনা ঠিক করেনি যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২২ শতাংশ।

ফাউন্ডেশনটির এবারের সমীক্ষায় মোট ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মাঝে বয়সের পরিসীমা অনুযায়ী ১৭-২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন ৫৮০ জন বা ৩৬.৯৪ শতাংশ, ২৩-২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন ৯১৯ জন বা ৫৮.৫৩ শতাংশ এবং ২৭-৩০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন ৭১ জন বা ৪.৫৩ শতাংশ।

লিঙ্গ ভেদে ১৫৭০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৭৫৬ জন বা ৪৮.১৫ শতাংশ পুরুষ,  ৮১৩ জন বা ৫১.৭৮ শতাংশ নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন বা ০.০৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জরিপে অংশগ্রহণ করেছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল ২৫১ জন বা ১৬.০০ শতাংশ, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল ২৫৪ জন বা ১৬.২ শতাংশ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল ৩৬৯ জন বা ২৩.৪ শতাংশ, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল ৩৪০ জন বা ২১.৭ শতাংশ, মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিল ৩৪১ জন বা ২১.৭ শতাংশ এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ১৫ জন বা ১.০০ শতাংশ।


সর্বশেষ সংবাদ