২৫ মার্চ ২০২৪, ১১:২০

বক্তব্যে ‘জয় বাংলা’ না বলায় অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রলীগের তালা

বক্তব্যে ‘জয় বাংলা’ না বলায় অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রলীগের তালা  © সংগৃহীত

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’’ না বলায় নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আতিয়ার রহমানের অপসারণের দাবি করেছে শাখা ছাত্রলীদের নেতারা। এরই প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা। দরজায় লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে পোস্টারও।

রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ওই অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শাখা ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীরা। এ সময় ওই অধ্যক্ষকে অপসারণ করা না হলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ সময় কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু না বলায় অধ্যক্ষের কক্ষে তালা” এবং “চলছে লড়াই চলবে, ছাত্রলীগ লড়বে” স্লোগান সম্বলিত পোস্টার লাগিয়ে দেন তারা।

ছাত্রলীগের নেতাদের অভিযোগ, গত ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে কলেজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দেওয়া হয়নি। এজন্য গত ১৫ দিন ধরে তার অপসারণে দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগ।

আরও পড়ুন: অ্যালার্ম বন্ধ করে ঘুমিয়ে উঠে দেখেন ফোন চুরি হয়ে গেছে ঢাবি ছাত্রের

অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সৈয়দপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি শাহ আলম রনি তার বক্তব্যে অধ্যক্ষ ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবি করেন এবং অপসারণ করা না হলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।

ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক আকাশ সরদারও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানটি তিনি মেনে নিতে পারেন না। তাই ওই দিবসে তিনি ছুটি দেখিয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেন অনুষ্ঠান পরিচালনার। তিনি অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা জয়, বঙ্গবন্ধু স্লোগানটি’ উচ্চারণ না করে সভার কাজ শেষ করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ড. আতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ঐতিহাসিক ৭ মার্চে কলেজের অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। ওই দিন আমি সরকারি একটি প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষক হিসেবে রংপুরে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। অথচ আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যা যা করার প্রয়োজন, আইনগতভাবে তা করা হবে বলেও জানান তিনি।