পরাজয় নিশ্চিত জেনেই গণহত্যা চালানো হয়েছিল: ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ
ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হায়েনারা শেষ সময়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে হত্যা করেছে। তারা এদেশের হাজার বছরের কৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করে বুঝতে পেরেছিল বাঙালি জাতির ভিত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক। আর এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ভিত্তি হলেন বুদ্ধিজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অধ্যক্ষ ইউসুফ বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত করতেই এসব কর্মসূচী পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র চলে দুটি কাঠামোর ওপর। একটি প্রশাসনিক অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো। বুদ্ধিজীবীরা একটি জাতিকে জাগ্রত রাখেন। তাঁদের চিন্তা, দর্শন, সংস্কৃতিকে ধারণের মাধ্যমে একটি জাতিকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই এই প্রজন্মের কাছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা- চেতনা, কর্মকে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
এছাড়াও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে অর্পণ করা হয়েছে পুষ্পার্ঘ্য। এছাড়াও বুদ্ধিজীবীদের জীবনীর উপর আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, দেয়ালিকা উদ্বোধন, কালো ব্যাজ ধারণসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির পালন করেছে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচি। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আ.ন.ম খুররম অডিটোরিয়ামে শহীদ বুদ্ধিজীবীদবর জীবন ও কর্ম এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী করে উদ্বোধন করা হয় দেয়ালিকার।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.টি.এম মইনুল হোসেন, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস সিকদারসহ অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ও কর্মচারীরা।