১২ নভেম্বর ২০২৩, ১৫:০৫

ক্যাম্পাসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর করলো বহিরাগতরা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলা করাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের বেশকয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিরাগতরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের একটি ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের একটি মাঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই খেলাধুলা করতে পারবে এমন নির্দেশনা রয়েছে। তবে প্রায়ই বহিরাগতরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে খেলাধুলা করে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতদের বাক-বিতণ্ডা হয়।

গত ৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে খেলার উদ্দেশ্যে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে বহিরাগতরা খেলাধুলা করছে। তখন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলতে চাইলে তাদের উপর চড়াও হয় বহিরাগত কয়েকজন যুবক। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করতে উদ্ধত হয় তারা। পরে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি সমাধান করে দেয়।

আরও পড়ুন: চাপে পড়ে দেড় কোটি টাকা ফেরত দিলেন কুবির ৭ শিক্ষক

এর জেরে গত শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) মাঠ থেকে খেলা শেষ করে মেসে ফেরার সময় পথিমধ্যে শিক্ষার্থীদের পথ রোধ করেন বহিরাগত কয়েকজন যুবক। এসময় তাদের কাছ থেকে খেলার সরঞ্জাম কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে। এসময় সিফাত, জিয়া, অচিন্ত, মাহফুজসহ ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করে তারা। এসময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে রবিবার (১২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামে। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা কর্মী চেয়ে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি যতদ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।

পরে উপাচার্যের আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন তুলে নেয়।