১১ আগস্ট ২০১৮, ১৪:২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের তল্লাশি, আতংকে শিক্ষার্থীরা

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রলীগের মোবাইল তল্লাশি আতংক তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ কর্তৃক মোবাইল ও ফেসবুক তল্লাশি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘সরকারবিরোধী স্ট্যাটাস’ দেয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাফসান আহমেদ নামের এক ছাত্রকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  পরবর্তীতে প্রক্টর তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।  জানা যায়, রাফসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ১ম বর্ষের ছাত্র।

এর আগে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ফজলুল হক মুসলিম হলের তিন শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহার করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।  পরবর্তীতে তাদেরকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।  উক্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন, গণিত বিভাগের তারিকুল ইসলাম, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের ওমর ফারুক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের জোবাইদুল হক রনি।  যদিও গুজবের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মঙ্গলবার তাদেরকে ছেড়ে দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগ বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের ফেসবুক, ইমো চেক করছে।  শিক্ষার্থীদের থেকে জোরপূর্বক সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করছে।  সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।  এমনকি অনেকে  ঈদের ছুটি শুরু না হওয়া স্বত্বেও বাড়িতে চলে গিয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস কে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ দ্বারা সাধারণ শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।  ন্যায্য কথা বলা কিংবা ফেসবুকে মন্তব্য করার জের ধরে এই হয়রানি করা হচ্ছে ।  তা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি।  আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই।  পাশাপাশি কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে সকল ভাইদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক এবং মেধার মূল্যায়নে কোটার সংস্কার আজ সারা দেশের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।  পরিবহন খাতে বাকশালীদের চাঁদাবাজি; শিক্ষা ও চাকরি খাতে ছাত্রলীগের প্রশ্নফাঁস-অর্থ বাণিজ্য করতেই তারা সাধারণ ছাত্রদের বাকস্বাধীনতা রোধ করতে চায়।  হলে থাকার ন্যায্য অধিকার থাকা স্বত্বেও আজকে তারা প্রতিবাদী মেধাবীদের রক্ত ঝরিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে মামলা দিচ্ছে।  সরকার তার ছাত্র সংগঠন দিয়ে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে কোন কারণ  ছাড়াই ক্যাম্পাস থেকে আটক করছে; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালেয়ের ২২ ছাত্রের রিমান্ড দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে লজ্জিত করেছে।  আমরা এসব ঘটনায় আতংকিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ফেসবুক একাউন্ট থেকে সরকার বিরোধী বা জঙ্গীবাদী গুজব ছড়ানো হয়েছে এমন প্রায় ৫০০ ফেসবুক একাউন্ট ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শনাক্ত করা হয়েছে।  এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।  ছাত্রদল বা হলে থাকে না এমন যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে তাদের অনেককে আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছি।  তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না, কেননা আমরা কর্তৃপক্ষ নই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতংকিত হওয়ার কিছু নাই।  তাদের যে কোন সমস্যার ব্যাপারে আমরা হল প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।  তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন বা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।  তিনি আরো বলেন, অপরাধী যে হোক বা যে সংগঠনের হোক আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’