২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯:৫৪

কমতে কমতে তলানিতে ইবির বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে  © ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গত দু’বছরে কমেছে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আগের বছরগুলোয় প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১৪ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এ বছর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন ভর্তি হয়েছে। টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব, ইন্টারনেট সমস্যাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তিতে অনীহা বিদেশি শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডিতে মোট ৬০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন ২০ জন। করোনাকালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কিছু শিক্ষার্থী অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেছেন।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে অনার্সে ৯, মাস্টার্সে তিন ও পিএইচডিতে চারজনসহ মোট ১৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একজন এবং চলতি বছরে তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি শুরু হওয়ার পর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তবে গত বছরে একজন এবং চলতি বছরে অনার্সে তিনজন ভর্তি হয়েছেন।

কয়েকজন বিদেশী শিক্ষার্থী জানান, তাদের যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর অর্ধেকও পাচ্ছেন না। হলে ইন্টারনেট সমস্যা। পরিবারের সঙ্গেও ভালোভাবে যোগাযোগ করা যায় না। এর সমাধান দরকার। তাঁরা ৪ বছরের ভিসায় এসেছেন। তবে সেশনজটের ফলে নতুন করে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন: ১০ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় রাবির শৃঙ্খলা কমিটি, হয়নি কোনো সভাও

শিক্ষার্থী কমার পেছনে ফরেন সেলের অফিস না থাকা এবং এখানে নির্বাচিত লোকবল সংকটকে দায়ী করেছেন অফিসের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, নির্দিষ্ট অফিস না থাকায় শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে দিনদিন কমছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। এখানকার কর্মকর্তাদের ভাতা না দেওয়ায় তারা কাজ করতে চান না।

গাম্বিয়ার এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। অন্যদিকে স্কলারশিপ নিয়ে ভর্তি হলেও সব ফি গুণতে হয়। খরচ বেশি পড়ে যাওয়ায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপে চলে যাচ্ছে।’

ফরেন সেলের কর্মকর্তা সাহদৎ হোসেন বলেন, ‘নির্দিষ্ট লোকবল না থাকায় শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করতে পারছে না। আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে। ফরেন সেলের কোনো অবদান নেই। আমরা  দীর্ঘদিন কাজ করছি, কিন্তু এ জন্য কোন ভাতা দেয়া হয় না।’

ফরেন সেলের সদ্য সাবেক পরিচালক ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, বিদেশী শিক্ষার্থীদের খরচের বিষয়ে আগে কোনও নিতীমালা ছিল না। একজন শিক্ষার্থীর চার বছরের খরচের তালিকা নতুন করে করা হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে ভালো সংখ্যক শিক্ষার্থী পাব।