কুবি প্রশাসনের একগুঁয়ে আচরণে শিক্ষক-ছাত্রলীগে ক্ষোভ

  © ফাইল ছবি

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে প্রশাসনের একগুঁয়ে আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও শাখা ছাত্রলীগ। আজ বুধবার দিবস পালনে ঘোষিত সময়ের আগেই কর্মসূচি পালন, ছাত্রলীগকে আমন্ত্রণ না জানানো ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতির বাইরে যাওয়ায় উপাচার্যের সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

গত ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে নিয়ে ১০টা ৪০ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার কথা জানানো হয়। তবে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই এ সময়ের আগেই আজ শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষ করেন উপাচার্য। এতে অনেকেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন। 

এছাড়া, শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বেই সাধারণত জাতীয় ও অন্যান্য দিবস পালন করে আসছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এবার এ রীতির বাইরে গিয়ে অন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার না হয়ে নির্দিষ্ট কিছু লোকের উপাচার্য হয়ে গিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো সবসময় শিক্ষক সমিতি পরিচালনা করে এসেছে। তিনি গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থেকেও রীতিনীত ভেঙ্গে খেয়ালখুশিমতো তাঁর অনুসারীকেই দায়িত্ব দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি নিজের খেয়াল খুশিমতোই চালাচ্ছেন। এগুলো কখনো কাম্য নয়।

এসব বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, অনুষ্ঠান পরিচালনায় সবার অংশগ্রহণের জন্য এবার ভিন্নভাবে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারে কয়েক মিনিট আগে যেতেই পারে।

এদিকে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রলীগকে আমন্ত্রণ না জানানোয় প্রশাসনের সাথে দিবস পালনে যোগ দেয়নি তাঁরা। প্রশাসনের কর্মসূচি পালন শেষে আলাদাভাবে শহিদ মিনার ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফুল দিয়েছে তাঁরা। 

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আলোচনায় উপাচার্যকে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ট আখ্যা দিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, কুবির ইতিহাসে এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ প্রশাসন ফুল দেওয়ার সময় নাটক করে আমাদের নাম ঘোষণা করেছে। বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া সংগঠন ছাত্রলীগকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন কুবি উপাচার্য। এখানে ছাত্রলীগ বলতে কিছু থাকবে না বলে প্রশাসনের লোকদেরকে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি।

তবে ছাত্রলীগের মন্তব্যের বিষয়ে তোয়াক্কা করছেন না জানিয়ে উপাচার্য বলেন, কে কী রকম কথা বলল না বলল, তা আমার দেখার বিষয় না। বরং বিশ্ববিদ্যালয় যাতে উন্নতির দিকে যায়, সেজন্য বিভিন্ন কার্যক্রম ও গবেষণার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি আমরা। এছাড়া কোনো ধরনের দুর্নীতি যাতে না হতে পারে, সেদিকে নজর দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


সর্বশেষ সংবাদ