নীরবে-নিভৃতে যাচ্ছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১৪ জুলাই। দুই যুগ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এবার ২৫তম বর্ষ তথা রজতজয়ন্তীতে পদার্পণ করেছে। ১৯৯৮ সালের এই দিনে যাত্রা শুরু করেছিল নিম্ন-মধবিত্তের এই প্রতিষ্ঠান।
সাধারণত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও বর্ণিল আয়োজনে উৎফুল্ল থাকে পুরো ক্যাম্পাস। কিন্তু ক্যাম্পাসে বিগত কয়েকবছর ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীতে নেই কোনো বিশেষ আয়োজন বা সাজসজ্জা। নেই কোন শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেটাও করা হয়েছিল ২৮ জুলাই, নির্ধারিত দিনে নয়। কারণ ঐ বছর ১৪ জুলাই ঈদের ছুটির মাঝে পড়েছিলো।
দীর্ঘ ৬ বছর এই দিনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আয়োজন করা হয়নি। ২০১৯ সালে এই সময় বৈধ উপাচার্যের দাবিতে ক্যাম্পাসে অচলবস্থা ছিল। ২০২০ ও ২১ সালে করোনার কারণে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। তবুও অনলাইনে বা স্বশরীরে নামমাত্রও কোন ধরনের আয়োজন ছিল না।
এ বছরও ঈদুল আযহার ছুটির কারণে এখন ক্যাম্পাস বন্ধ, নেই শিক্ষার্থীরা। তবে পাঠদান ব্যতীত অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১২ জুলাই থেকে। সীমিত পরিসরে হলেও চলছে সবকিছু। তাই কোনো আয়োজন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যয়নরত দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাহিনুর সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন মুহূর্ত অর্জন করেছে। এ অর্জন উপলক্ষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আনন্দ অনুষ্ঠানের আশা করে থাকি, যা দেশের দরবারে বিশ্ববিদ্যালয়কে উজ্জ্বল করবে। যা হবে সৃজনশীল কিছু। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হল, ২৫তম বছরেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালযে কোনো আয়োজন নেই। ব্যাপারটি খুবই দুঃখজনক।
সিএসই বিভাগের ৩য় সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জমকালো আয়োজন থাকা উচিত। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আরও বিশেষ আয়োজন থাকা দরকার। ২০২২-২৩ বছরকে রজতজয়ন্তী বছর ঘোষনা করে বেশকিছু আয়োজন করলে ভালো হবে। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, আমরা এটি নিয়ে অনেক আগেই বসেছিলাম। ঈদের ছুটিতে শিক্ষার্থীরা না থাকায় কোনো আয়োজন রাখা সম্ভব হয়নি। তবে ক্যাম্পাস চালুর পর বিশেষভাবে দিনটি পালন করবো।