জীবনের সাফল্য আর ছাত্র জীবনের সাফল্য এক গতিতে চলে না: শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও)

দীপু মনি
এআইইউবি-এর ২০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে  © সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কেন সকল শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ পেতে হবে? জিপিএ-৫ তো জীবনের সবকিছু নয়। তবে ভালো ফলাফল করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে নিশ্চয়। কিন্তু পৃথিবীতে যত সফল মানুষ আছে সবাই যে ছোটবেলার ছাত্রজীবনে সফল ছিল তা কিন্তু না। জীবনের সাফল্য আর ছাত্র জীবনের সাফল্য এক গতিতে চলে না। তার মানে এই নয় যে পড়াশোনা করতে হবে না, ভালো ফলাফল করতে হবে না।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি- বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর ২০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়ালি এতে অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি ও এআইইউবির চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে এসময় তিনি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পড়াশোনা করতে হবে এবং ভালো ফলাফল করতে হবে। কিন্তু ভালো মানুষ হওয়াটা জরুরি। জীবনের যে দিকে যার নজর, যা হতে চাই তার সেই স্বপ্নটাকে অর্জন করতে পারলো কিনা দিনশেষে সেটাই কিন্তু সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।

তিনি আরও বলেন, যখনই বলি যে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এসেছে, তখন সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্ন পরীক্ষা আছে কিনা নেই? অর্থাৎ পরীক্ষাটাই জীবন। পরীক্ষার ফলাফলের পরে জিপিএ-৫ এর কি উন্মাদনা। জিপিএ-৫ পেলে একবারে ফেসবুকে ভাসিয়ে দিচ্ছে  সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে। আর জিপিএ-৪.৯০ পেলে কবরের নিস্তবন্ধতা।  এটি একটি সামাজিক ব্যাধির মতো হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের পরীক্ষা নির্ভরতা কমাতে হবে। সেটা আমরা এবার খুব চেষ্টা করছি। শুধুমাত্র সনদের জন্য নয়। পড়াশোনাটা করতে হবে আনন্দের মধ্যে দিয়ে। যা শেখা দরকার জীবনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেটা করতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে। অনেক অনেক স্বপ্ন দেখতে হবে। অনেক অনেক অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। সমাবর্তন বক্তা হিসাবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এইচ ই রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এআইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান ড. হাসানুল আবেদীন হাসান এবং ভাইস চ্যান্সেলার ড. কারমেন জেড লামাগনা।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষাবর্ষ ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ এর বিভিন্ন অনুষদের মোট ২ হাজার ৮৭৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সনদ অর্জনের পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সাথে কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে নিত্যনতুন দক্ষতা অর্জন করে দেশের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে এ মহামারির মধ্যেও আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পেরেছি। উচ্চতর মানবসম্পদ গড়তে তারুণ্য জ্ঞান মেধা ও প্রজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। করোনাকালীন মহামারির সময়ে সুষ্ঠভাবে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য তিনি এআইইউবির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সমাবর্তন বক্তা হিসাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিট্রিশ হাইকমিশনার এইচ ই রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এখন সর্বত্র প্রশংসনীয়। অর্থনীতিসহ নারী শিক্ষা ও উন্নয়ন এবং শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি একটি মাইলফলক। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরো অনেক বেশি সহযোগিতামূলক শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে পারে। 

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভ্যালোডিকটরিয়ান বক্তব্য প্রদান করেন এমপিএইচ বিভাগের শিক্ষার্থী নুদের নোওয়ার নিজাম। এছাড়াও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এআইইউবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য  ইশতিয়াক আবেদীন, নাদিয়া আনোয়ার, ডা. আব্দুস সামাদ আলীম, মিসেস সাবরিনা আবেদীন, ডুলসে ল্যামাগ্না মজুমদারসহ সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ