গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন সেই কনস্টেবল
‘কথা দিয়ে আঘাত না করে হাত দিয়ে আঘাত করা যেত। ক্ষতটা অন্তত দ্রুত সেরে যেত’— দু’দিন আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ কথা লিখেছিলেন কনস্টেবল মেহেদী হাসান। কার আঘাতে তিনি যন্ত্রণাদগ্ধ ছিলেন তা জানা যায়নি। এরকম আবেগময়ী আরও কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদারের সরকারি বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি।
এসপি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বাসার প্রধান ফটকে সেন্ট্রি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মেহেদী হাসান। তার সঙ্গে গুলি লোড করা অবস্থায় রাইফেল ছিল। ওই অস্ত্রের একটি গুলি তার থুতনি দিয়ে ঢুকে মাথা দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি গুলিগুলো অস্ত্রের মধ্যেই ছিল। এটি আত্মহত্যা হয়ে থাকতে পারে। আবার দুর্ঘটনাও হতে পারে। অসাবধানতাবশত ট্রিগারে চাপ লেগে গুলি বেরিয়ে থাকতে পারে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫ জুলাই থেকে রমনার শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরনিতে ঢাকা জেলার এসপির বাসার প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন মেহেদী হাসান। সেখানে শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে রমনা থানার পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহেলা গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল হানিফ।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিজের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করেছে। ওই কনস্টেবলের ব্যবহৃত অস্ত্রটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কনস্টেবল মেহেদী হাসানের মৃত্যুকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে এর কারণ জানাতে পারেনি। মৃতের কাছে বা ঘটনাস্থলে কোনো ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মহত্যা করার মতো মানসিক পরিস্থিতিতে ছিলেন কি না তাও কেউ জানাতে পারেননি। তবে ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, ‘আগে জানলে স্বার্থভরা পৃথিবীতে আসার জন্য আল্লাহর কাছে কখনো বায়না করতাম না, ভালো থাকুক প্রিয়জনেরা।’
ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ মেহেদীকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান রমনা থানার এসআই আবদুস সালাম। তিনি জানান, ঢাকা জেলার এসপির উপস্থিতিতেই ওই কনস্টেবলকে উদ্ধার করা হয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।