এনএসইউ’র পর এবার গ্রিনে

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনও অনলাইনে!

সমাবর্তন
জুমে অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর চতুর্থ সমাবর্তন  © প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারির কারণে গত ১৫ মাস যাবত বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সশরীরে সমাবর্তন আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ায় এসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা তাদের অর্জিত ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। ফলে মূল সনদপত্রের পরিবর্তে সাময়িক সনদপত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে তাদের।

তবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিকল্প সমাবর্তনের আয়োজন করা অনুমতি দিয়েছে সরকার।  চলতি বছরের ৮ এপ্রিল দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল সমাবর্তন আয়োজন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ (এনএসইউ)।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৩তম এই সমাবর্তনে ৪ হাজার ১৪ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে সনদ দেয়া হয়। তাছাড়া দুজন কৃতী শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর এবং ৮ কৃতী শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) স্বর্ণ পদক দেয়া হয়।

এবার দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (জুম) অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর চতুর্থ সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়টির চতুর্থ (ভার্চুয়াল) সমাবর্তন অনুষ্ঠান আগামীকাল শনিবার (১৯ জুন) বিকাল ৩টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (জুম) অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ-এর প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব করবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখবেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফায়জুর রহমান।

এবারের সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এদের মধ্যে ৬ জন চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং ১৩ জন ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল পাবেন।

সমাবর্তন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, সমাবর্তনের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী বৃহত্তর কর্মজীবনে প্রবেশ করে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতাও বাড়ে এই সমাবর্তন থেকে। সুতরাং গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাময়িক সনদ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের কাজে আসে না। আর এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সমাবর্তন অবশ্যম্ভাবী বিষয়। করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সমাবর্তন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কেও পথ দেখাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ভার্চুয়াল সমাবর্তন: সমাবর্তনের চেয়ে বেশি কিছু

তথ্যমতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতির কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে করোনা মহামারির মধ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন আয়োজনের এই প্রস্তাবে সায় দেননি রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে উনার অনুপস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন: করোনা মহামারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নয়

এদিকে, করোনার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল সমাবর্তন আয়োজন করার অনুমতি দেয় সরকার। গত ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রতিনিধিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পুরো অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ভার্চুয়ালি। শিক্ষার্থীরা বাসায় থেকে জুমের মাধ্যমে সমাবর্তনে যোগ দেন।

জানা যায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে তাদের সমাবর্তনের হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে অনলাইনে সমাবর্তন আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ