০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:১৫

ইউল্যাব ছাত্রীর মৃত্যু: মদ সরবরাহকারীকে খুঁজছে পুলিশ

  © প্রতীকী ছবি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)’ এর এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ওই ছাত্রী ও তার বন্ধুরা উত্তরায় একটি পার্টিতে গিয়ে মদ খান। পার্টিতে অংশ নেওয়া আরাফাত নামের আরও এক তরুণ শনিবার (৩০ জানুয়ারি) মারা গেছেন। এরপর রবিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই ছাত্রী।

পুলিশ বলছে, মদের বোতলটি তাদের মধ্যে একজন বিমানবন্দর থেকে উত্তরার ওই রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক পলাতক রয়েছেন। তার নাম-পরিচয় এখনো জানতে পারেনি পুলিশ।
 
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীসহ বন্ধুরা উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে মদপান করেন। অতিরিক্ত মদ্যপানে এদের মধ্যে এক তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসায় চলে যান। ভুক্তভোগীও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে রাইডশেয়ারিং উবারের একটি গাড়িতে করে আরও দুই বন্ধু মিলে মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় যান।
 
একপর্যায়ে ওই ছাত্রী আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি না করায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
 
পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসেন। তরুণীর মৃত্যুর আগে তিনি বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মোহাম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রায়হান ও তার আরেক বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
পুলিশ জানায়, ওই বাসায় যাওয়ার পর তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুর শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী বমি করতে থাকলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যারা মদ্যপান করেছিলেন এদের মধ্যে আরাফাত নামে এক যুবক অসুস্থ হয়ে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) মারা যান।
 
গ্রেফতার দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মদ্যপানে বিষাক্ত কিছু থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, মদ্যপান করিয়ে বাসায় নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে, সেটাও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি, তাদের অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গে বিষাক্ত কোনো কিছু থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছে কি-না আমরা খতিয়ে দেখছি। তাদের সঙ্গে একটি ছেলে ছিল যাকে আমরা পাচ্ছি না। তিনি বিমানবন্দর থেকে উত্তরার রেস্তোরাঁতে মদটা নিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে, আমরা সব তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনাটি কি ঘটেছিল।
 
হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত তদন্ত করছি আরও যদি কেউ এতে জড়িত থাকে তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। মদ্যপানের সময় যদি কেউ কিছু মিশিয়ে থাকেন কিংবা ওই রেস্টুরেন্টটির লাইসেন্স আছে কি না, সবকিছু মিলিয়ে আমরা তদন্ত করে জানাতে পারবো।