বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পদত্যাগ গাকসু ভিপির

গাকসু
গাকসু ভিপি মো. জুয়েল রানা  © টিডিসি ফটো

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) প্রশাসনের প্রতি নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গাকসু) বর্তমান সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. জুয়েল রানা পদত্যাগ করেছেন। তার নিজের হাতে লেখা পদত্যাগপত্রটি সংসদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানু বরাবর প্রেরণ করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) মো. জুয়েল রানা বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। ছাত্র সংসদ সভাপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগ পত্রটি প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী রেজিষ্ট্রার আবু মুহাম্মাদ মুকাম্মেল।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে ভিপি জানান, সংসদের প্রতি প্রশাসনের অপ্রাসঙ্গিক নির্দেশ, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিপূর্ণ বাজেট না হওয়া, প্রশাসনিক কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের মুখে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের অপারগতা স্পষ্ট হচ্ছে। একইসাথে ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি অসম্মান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া সংসদ প্রতিনিধিদের বড় অংশ পড়াশোনা সম্পন্ন করে চলে যাওয়ায় আমার একক সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় নিজের অযোগ্যতা স্বীকার করে আমি পদত্যাগ করছি।

পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরে ফেসবুকে দীর্ঘ একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন ভিপি। পাঠকদের উদ্দেশ্যে স্ট্যাটাসটি পরিমার্জিত ভাষায় তুলে ধরা হলো:

‘২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাকে সারাজীবন কৃতজ্ঞ রাখবে ইনশাআল্লাহ। অতঃপর সংসদকে ঘিরে অপ্রাসঙ্গিক নির্দেশে প্রায় ৮ মাস সংসদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠান করা করা হয় উনিশ মাস পর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অপরিপূর্ণ ছিল বাজেট।

উপদেষ্টামণ্ডলীর তিন বছরে একদিন মিটিং এবং উদাসীনতা বরাবরই কষ্টদায়ক। প্রশাসনিক কোন্দল আর গ্রুপিং, সংসদ বিরোধী কতিপয় শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা এবং বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে আমার নির্বাচিত সংসদের অপারগতার দরুণ কার্যক্রম প্রবল ব্যাহত হয়েছে। অতঃপর সংসদ সভাপতি এবং ট্রাস্টি বা প্রতিষ্ঠাতা স্যারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে কিছুদিন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং দ্রুত অনেকগুলো প্রোগ্রাম আয়োজনে সংসদের ভূমিকা ছিলো চমকপ্রদ ও প্রশংসনীয়।

এরই মধ্যে মহামারি করোনার ফলে থেমে যায় সবকিছু। বর্তমান ক্যাম্পাসের দরুণ সংসদের ভিপি হিসেবে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অসম্মান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে আমার অনুধাবন। সংসদের এই পদে থেকে এটা একেবারেই অনুচিত। আবার প্রায়ই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কার্যক্রম বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ঝগড়ায় ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে ক্যাম্পাস।

সংসদের প্রতিনিধিগণের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই কোর্স শেষ করে বের হয়ে যাওয়ায় অনেক সময়ই আমার একক সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। তাই অপার সম্ভবনাময় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে থেকে অযোগ্যতা আর অপারগতা বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য আমি ক্যাম্পাস এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে শিক্ষকদের সম্মান রক্ষায় স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ভিপি পদ থেকে অব্যাহতি দিতে আমার আবেদনটি পেশ করেছি। সর্বভুলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

সার্বিক বিষয়ে ছাত্র সংসদের সভাপতি ডাঃ লায়লা পারভীন বানু বলেন, আমি বাসায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছি। তাই এখনো অফিসিয়ালি পদত্যাগপত্রটি আমার কাছে পৌঁছায়নি।


x