০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৮

অপতথ্য এখন কাঠামোগত সংকট, আইন একা সমাধান নয়

নীতি সংলাপে অতিথিবৃন্দ  © টিডিসি ফটো

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির (ডিআইইউসাস) উদ্যোগে ভুল তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সুশাসন ও গণতন্ত্রে এর প্রভাব নিয়ে অপতথ্য বিষয়ক নীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এ নীতিসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে বক্তারা বলেন, অপতথ্য (মিসইনফরমেশন) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যবিকৃতি (ডিজইনফরমেশন) এখন আর শুধু যোগাযোগের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকট। তারা বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় আইন একমাত্র সমাধান হতে পারে না; প্রয়োজন সমন্বিত নীতি, শক্তিশালী গণমাধ্যম চর্চা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় মিডিয়া লিটারেসির কার্যকর অন্তর্ভুক্তি।

দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, তথ্য হচ্ছে সংবাদের কাঁচামাল। তথ্য মানেই কিন্তু সংবাদ নয়।

তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করার চর্চা থেকে বের হতে হবে এবং গণমাধ্যমকে সত্যিকারের গণমানুষের কণ্ঠ হয়ে উঠতে হবে।

গণমাধ্যমের অতীত ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা ও উত্থানে গণমাধ্যমের দায় রয়েছে এবং এ দায় স্বীকার করতেই হবে। গণমাধ্যম আজ সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে, সাংঘাতিক জনরোষের ভয়ে ভীত—এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

ডিআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এআই যুগের এই সময় আমাদের বিভ্রান্ত করছে। রাষ্ট্র এখনো বিভ্রান্তির মধ্যে রয়ে গেছে। এই জায়গা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। গত সরকারের আমলে ‘ন্যাচারাল ট্রমা’র মধ্যে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনায় কিংবা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশে গ্রহণযোগ্য ও যুগোপযোগী মিডিয়া পলিসির ঘাটতি রয়েছে। আরও কয়েক দশক আগে আমাদের যে গণমাধ্যম নীতিমালা থাকা দরকার ছিল, আমরা এখনো তা ভাবছি। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে গণমুখী করতে দক্ষ সাংবাদিক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব বলেন, একটি মিথ্যা সংবাদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তথ্যপ্রবাহের অবাধ সুবিধাকে অপব্যবহার বন্ধে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম বলেন, ভুল তথ্য এখন আর শুধু যোগাযোগের সমস্যা নয়, এটি একটি কাঠামোগত সংকট। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং দুর্বল মিডিয়া লিটারেসি—এই তিনটি বিষয় মিসইনফরমেশনকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি তৈরির ওপর জোর দেন।

নীতি সম্মেলনের প্রধান অতিথি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের অপতথ্য উপস্থাপনার সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহ আলম চৌধুরী, ডিআইইউ’র প্রধান উপদেষ্টা রাজিউর রহমান, ডিআইইউসাসের সাবেক সভাপতি মুছা মল্লিক, বর্তমান সভাপতি কালাম মুহাম্মদসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ সালের সেরা চারজন প্রতিবেদককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘এম আই পাটোয়ারী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।