প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে আকাশ ছোঁয়ার আয়োজন!
জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিস্ময়কর জগতে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এক্সপ্লোরিং দ্য কসমস: অ্যাস্ট্রো টক অ্যান্ড স্টার অবজারভেশন’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা জাগ্রত করা ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে কৌতূহলকে আরও গভীর করা।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হলরুম ৪০১-এ অনুষ্ঠিত হয় অ্যাস্ট্রো টক। এতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের নানা দিক তুলে ধরা হয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায়। সন্ধ্যা নামতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে শুরু হয় স্টার অবজারভেশন সেশন। শক্তিশালী টেলিস্কোপে চোখ রেখে শিক্ষার্থীরা দেখেন চাঁদ, গ্রহ ও দূরবর্তী নক্ষত্র—যা অনেকের জন্যই ছিল প্রথম এমন অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারসেম এম মোহাম্মেদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুতুব উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির। সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজন কমিটির সদস্যসচিব, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তার উদ্বোধনী বক্তব্যে আসাদুজ্জামান প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক বিজ্ঞান এবং কলাবিদ্যাকে (লিবারেল আর্টস) পঠন-পাঠন ও গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ‘অ্যাস্ট্রো স্কুল’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে এনওসি-বিডি টিমের সঙ্গে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিরন্তর সহযোগিতার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও যুক্তিনির্ভর চিন্তা গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের সঙ্গে জীবন্তভাবে যুক্ত করে।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘জ্যোতির্বিজ্ঞান কেবল একটি বিষয় নয়, এটি বিজ্ঞান ও দর্শনের মিলনস্থল। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
মূল বক্তব্যে বুয়েট অধ্যাপক ড. ফারসিম মান্নান মোহাম্মদি বলেন, মানবসভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে এসেছে। সেই কৌতূহল থেকেই জন্ম নিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান, যা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানশাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। তত্ত্ব ও পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিক সংলাপই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক, শিক্ষকবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও মানসম্মত শিক্ষার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার আরও একবার তুলে ধরা হয়।
এই আয়োজনটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) ও অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স। সহযোগিতায় ছিল এনওসি-বিডি, আইএইউ-ওএও, আর স্টার অবজারভেশন সেশনের পর্যবেক্ষণ সহযোগী হিসেবে কাজ করে MicB Scientific। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াবে।